
কুমিল্লার দেবিদ্বারে নিজ মা ও ছয় মাস বয়সী ভাতিজিকে কুপিয়ে ও আছাড় দিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেফতার যুবক ইমন মিয়া (২৯)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত-৪-এর বিচারক সায়মা শরীফ নিশাতের আদালতে তিনি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে রাত পৌনে ১০টার দিকে বিচারক তাকে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এসব তথ্য জানান আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে আজ মঙ্গলবার নিহত পিয়ারা ও ইসরাতের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিকেলে জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্তকারী অফিসার উপপুলিশ পরিদর্শক বাঁধন দাস।
আটক ইমন মিয়া উপজেলার বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়ির মরহুম ফরিদ উদ্দিনের ছোট ছেলে। নিহত পিয়ারা বেগম ইমনের মা ও শিশু ইসরাত জাহান ইমনের বড় ভাই সুজন মিয়ার মেয়ে।
এ ঘটনায় শিশুটির মা ও ইমনের ভাবি রাবেয়া বেগম গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে ফুটবল খেলতে গিয়ে পায়ে গুরুতর আঘাত পান ইমন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও দুই দফা অস্ত্রোপচারেও সুস্থ না হয়ে পায়ের যন্ত্রণা আরো বাড়তে থাকে। সম্প্রতি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর পঙ্গুত্ব, বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও তীব্র যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে তিনি আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইমন আত্মহত্যার চেষ্টা করলে মা পিয়ারা বেগম ও ভাবি রাবেয়া বেগম তাকে বাধা দেন। সোমবার সকালে ধারালো দা দিয়ে নিজেকে হত্যা করার জন্য মাকে বলেন। মা তাকে বোঝাতে গেলে ইমন সেই দা দিয়ে তার মাকে এলোপাতাড়ি কুপাতে থাকেন।
এ সময় শাশুড়িকে বাঁচাতে রাবেয়া বেগম ছুটে এলে তার কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু ইসরাতকে কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছাড় দেন ইমন। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও ভাতিজির মৃত্যু হয়। এরপর ভাবি রাবেয়াকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন তিনি।
স্থানীয়রা রাবেয়াকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক ইমনকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। খবর পেয়ে পিবিআই ও সিআইডির পৃথক দু’টি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিকে আটক করে। এ ঘটনায় সোমবার সন্ধ্যায় ইমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে দেবিদ্বার থানায় দণ্ডবিধির ৩০২, ৩২৫ ও ৩০৭ ধারায় মামলা করেন তার বড় ভাই সুজন মিয়া।








