লাশ
শিশু রাকিবা আক্তার রুমির লাশ নয়া দিগন্ত

দিনাজপুরে চার বছরের নিষ্পাপ শিশু রাকিবা আক্তার রুমি হত্যার মূল আসামি আদিবাসী রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে হত্যাকারী মূল আসামি রিপন টুডুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের জামতলীনামক স্থান থেকে মাটিতে পুঁতে রাখা শিশু রাকিবার লাশ উদ্ধার করে। 

দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গ্রেফতার রিপন টুডুর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতেই দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালিয়ে শিশু রুহির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রিপন টুডু ও শিশুটির মা জিন্নাতুন বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘হত্যার মূল ঘটনা কী, কী কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, লাশ কোথায় এবং কীভাবে গুম করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না এসব বিষয় জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে।’

তদন্তসংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় চার মাস আগে শিশু রুহির মা জিন্নাতুন বেগমের সাথে রিপন টুডুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে জিন্নাতুন তার মেয়ে রুহিকে নিয়ে রিপন টুডুর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আরো ধারণা করা হচ্ছে, ওই সম্পর্কের ক্ষেত্রে শিশুটি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি পুলিশের প্রাথমিক ধারণা; হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করতে গ্রেফতার দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ প্রায় দুই মাস অতিক্রম করলেও কোনো সুরাহা না মেলায় গত কয়েকদিন ধরে নিহতের পরিবার ও বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা বিচার ও আসামিদের গ্রেফতারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানায়। জনতার এই তীব্র আন্দোলনের মুখে নড়েচড়ে বসে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। গত সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত রিপন টুডু ও শিশুটির মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অবশেষে অভিযুক্ত রিপনসহ দু’জন গ্রেফতার হওয়ায় ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর সাথে ঘটে যাওয়া এমন নির্মম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।