
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে পড়বে।’
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর কেন্দ্রঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরীর ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে আয়োজিত মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশ শেষে কোর্ট পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৮ এপ্রিল প্রথম দফায়, ৩১ মে দ্বিতীয় দফায় এবং সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে এভাবে দফায় দফায় দাম বাড়ানো সরকারের একের পরে এক গণবিরোধী সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ।’
তেলের দাম বাড়ায় জনগণের জীবনমানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে সরকার একের পর এক এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। শিশু ও নারীসহ কারো জানমালের নিরাপত্তা নেই। প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকদের বসিয়ে লুটপাটের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। জাতীয় ঐক্য ও সঙ্কট সমাধানে বিরোধীদল বারবার আহ্বান জানালেও সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দুর্নীতির কারণে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। সংসদ ও জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে গণশুনানির কথা থাকলেও রাতের আঁধারে দাম বাড়িয়ে সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। অবিলম্বে বর্ধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রত্যাহার এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।’
সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘পতিত আওয়ামী সরকারের মতো রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। একদিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ দেয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সেই দায় জনগণের ওপর চাপাতে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। এর পরিণতি সরকারের জন্য ভালো হবে না।’
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী, ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু, সিলেট মহানগর শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, জামায়াত নেতা শফিকুল আলম মফিক, রফিকুল ইসলাম মজুমদার প্রমুখ।








