
মাদরাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি দুই কিশোর। এরপর তাদের অপহরণ করা হয়েছে—এমন অভিযোগে থানায় জিডি করেন অভিভাবকেরা।
এরই মধ্যে একজনের বাবার ইমোতে আসে হাত-পা বাঁধা এক কিশোরকে মারধরের ভিডিও, সাথে মুক্তিপণের দাবি। শেষ পর্যন্ত সেই ‘অপহৃত’ দুই কিশোরের সন্ধান মিলল জৈন্তাপুরের একটি রেস্টুরেন্টে।
র্যাব বলছে, অপহরণ নয়, মাদরাসায় পড়তে অনাগ্রহ থেকেই নিজেরাই গা-ঢাকা দিয়েছিল তারা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড় ৩টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের হরিপুর বাজারের মায়ের দোয়া শাহজালাল রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে উদ্ধার করে র্যাব-৯-এর একটি দল।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
উদ্ধার হওয়া দুই কিশোরের মধ্যে সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উত্তর মনসুরপুর গ্রামের বেবুল আহমদের ছেলে মো: সাইদ মাসুদ চৌধুরী নাইম (১৫) এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বড়বন গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে মো: তামিম আহমদ (১৫)। তারা সিলেট নগরীর খাদিমপাড়া এলাকার জাবালে নূর হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
র্যাব-৯ জানায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের সময় দুই কিশোর একসাথে মাদরাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর তারা আর মাদরাসায় ফেরেনি।
বিষয়টি অভিভাবকদের জানান মাদরাসার পরিচালক তোফায়েল আহমেদ। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থান ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে অভিভাবকেরা শাহপরাণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে নাইমের বাবার মোবাইল ফোনের ইমো অ্যাপে নম্বরবিহীন একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা দাবি করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ওই অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিও কল আসে। সেখানে নাইমের মতো দেখতে এক কিশোরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখানো হয়। পরে আরো একটি ভিডিও পাঠানো হয়। এতে দুই কিশোরকে অপহরণের বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর বাজারের ওই রেস্টুরেন্টে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুজনকেই উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই কিশোর জানায়, মাদরাসায় পড়াশোনার প্রতি তাদের আগ্রহ ছিল না। তাদের মধ্যে একজন এর আগেও দুইবার মাদরাসা থেকে পালিয়েছিল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মাদরাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা নিজেরাই জৈন্তাপুরের হরিপুর বাজারে চলে যায়। সেখানে ওই রেস্টুরেন্টে কাজ শুরু করে তারা।
তবে মুক্তিপণের ভিডিও পাঠানোর বিষয়টি এখনো রহস্যের মধ্যে রয়েছে।
এএসপি কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘ওই দুই কিশোরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তারা জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের নয় এবং তারাও এমন কোনো ভিডিও পাঠায়নি।’
তিনি বলেন, ‘শিশু নিখোঁজের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অন্য কোনো শিশুর ভিডিও ব্যবহার করে পরিবারের কাছে টাকা দাবি করে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’







