শিক্ষা
কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনের একটি মুহূর্ত। সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাদরাসা আবু হুরায়রার প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান। সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ থেকে শিক্ষাবিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালক, শিক্ষা উদ্যোক্তা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এতে মোহাম্মদ মুসা খান পরিচালিত মাদরাসা আবু হুরায়রার সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতি ও ইতমিনান কারিকুলাম বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।

Advertisement

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশনে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলনের উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ থেকে শিক্ষাবিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালক, শিক্ষা উদ্যোক্তা ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান চ্যালেঞ্জ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের যুগে শিক্ষাকে আরো কার্যকর ও যুগোপযোগী করার উপায়, শিক্ষার্থী গঠনে শিক্ষক ও অভিভাবকের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে মাদরাসা আবু হুরায়রার সমন্বিত শিক্ষাপদ্ধতি ও ইতমিনান কারিকুলাম বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। আধুনিক সাধারণ শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষা, নৈতিকতা ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে পরিচালিত এ কারিকুলামের বিভিন্ন দিক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান।

সম্মেলনে বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের নাম নয়; নৈতিকতা ও দক্ষতার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশই শিক্ষার মূল লক্ষ্য। বর্তমান বিশ্বে শুধু তথ্য ও জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ, মানবিকতা, বাস্তব দক্ষতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। মাদরাসা আবু হুরায়রা কিভাবে সাধারণ শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলছে, সে বিষয়টি তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন।

শিক্ষকদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠন, মানসিক বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরিতেও শিক্ষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

এ সময় মাদরাসা আবু হুরায়রার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি অসহায় ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তির মাধ্যমে সহযোগিতা করে। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ ও মানবিক কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটি যুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি ‘বর্ষসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালক’ বিভাগে স্বীকৃতি লাভ করেন মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান। সম্মেলনে তার হাতে এ স্বীকৃতির স্মারক তুলে দেয়া হয়।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসা আবু হুরায়রায় বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটির ১০টি শাখায় কর্মরত রয়েছেন প্রায় ২৫০ শিক্ষক। এর মধ্যে হিফজুল কোরআন বিভাগে রয়েছে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষাকার্যক্রমে আধুনিক সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময়ের সুযোগ পান মুফতি মোহাম্মদ মুসা খান।