বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
অবহেলায় পড়ে আছে লাখ লাখ টাকার জেনারেটর, বিদ্যুৎ না থাকলে ব্যাহত ল্যাব-ক্লাস নয়া দিগন্ত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চার ভবনে অবহেলায় পড়ে আছে লাখ লাখ টাকার জেনারেটর। গত প্রায় এক দশক ধরে জেনারেটরগুলো কখনোই চালানো হয়নি। এদিকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ চলে গেলে অচল হয়ে পড়ে ল্যাবরেটরির কাজ ও শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, অন্যদিকে লো-ভোল্টেজের কারণে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার ল্যাব সরঞ্জাম। তবুও সচল করার কোনো উদ্যোগ নেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের শুরুর দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনগুলো নির্মাণের সময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর এই চারটি জেনারেটর স্থাপন করে দিয়েছিল। জেনারেটরগুলোর আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ১৬ লাখ টাকা। স্থাপনের পর প্রথম কয়েক দিন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য চালানো হলেও পরবর্তীতে আর এগুলো চালু করা হয়নি। সেই থেকে পড়ে আছে জেনারেটরগুলো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জং ধরে মরিচা পড়ে গেছে জেনারেটরগুলোতে, রুমের তালায় জং ধরেছে; যা দেখে মনে হয় বছরের পর বছর ধরে তা খোলাই হয়নি।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সঙ্কট ও লো-ভোল্টেজের সমস্যা নিত্যদিনের ঘটনা। 

শিক্ষার্থীরা জানান, সামান্য বিদ্যুৎ ঘাটতি হলেই পুরো অ্যাকাডেমিক ভবনে বিদ্যুৎ চলে যায়। হাই-টেক ল্যাবগুলোতে বিদ্যুৎ না থাকলে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও প্র্যাকটিক্যাল কাজ বন্ধ রাখতে হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রতিনিয়ত লো-ভোল্টেজের কারণে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবের ফ্যান-লাইট ধীরগতিতে চলে এবং কোটি কোটি টাকা দিয়ে কেনা সংবেদনশীল ল্যাব সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত ১০ বছরে এই জেনারেটরগুলো একদিনের জন্যও চালু হতে দেখিনি। এভাবেই পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল বলেন, ‘আমাদের অনেক ইনস্ট্রুমেন্ট আছে যেগুলো বিদ্যুতের ওঠানামার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে আগেও অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সবাই জানি, কিছু কিছু যন্ত্রপাতি আমাদের আছে যেগুলো খুবই সেনসিটিভ।’

নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশীদ জেনারেটরগুলো নষ্ট নয় দাবি করে বলেন, ‘জেনারেটরগুলো ভালো আছে, তবে পড়ে রয়েছে দীর্ঘদিন। এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ বা পরিচালনার দায়িত্ব এস্টেট শাখার। কর্তৃপক্ষ আমাকে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ বা চালু করার কোনো নির্দেশ দেয়নি। চাবি কোথায় আছে তা দেখতে হবে।’ 

তিনি আরো জানান, বর্তমানে কেবল লাইব্রেরি, ভিসি ভবন ও ভিসি কার্যালয়ে তিনটি আলাদা জেনারেটর ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে এস্টেট শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো: হারুন অর রশীদ বলেন, ‘এগুলো আমরা দেখি না। প্রকৌশল শাখার দেখার কথা এ কাজগুলো। আমাদের কাছে চাবিও নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী মুরশিদ আবেদীন বলেন, ‘এই জেনারেটরগুলো আমরা সরাসরি ক্রয় করিনি, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর ভবন হস্তান্তরের সময় দিয়েছিল। হস্তান্তরের পর কিছুদিন চালু থাকলেও পরে আর চালানো হয়নি। বর্তমানে জেনারেটরের চাবি কোথায় আছে, তাও আমাদের জানা নেই; এস্টেট অফিসে খোঁজ নিলে পাওয়া যেতে পারে। তবে জেনারেটরগুলো এখনো সচল করা সম্ভব। একেকটি চালু করতে হয়তো দেড় থেকে দুই লাখ টাকা খরচ হতে পারে।’