
ইসরাইল ও ইহুদিবিদ্বেষ ইস্যুতে সমর্থন হারালেও ৫০ শতাংশের বেশি ইহুদি ভোট পেয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল আল-সাইয়িদ । পলিটিকোর একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অবশ্য, সদ্য নির্বাচিত আবদুল আল-সাইয়িদ অন্যান্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর তুলনায় ইহুদি ভোটারদের সমর্থন কম পেয়েছেন।
যেসব এলাকায় ইহুদি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি, সেখানে আল-সাইয়িদ মিশিগানের অন্য ডেমোক্র্যাটদের থেকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। অবশ্য পুরো রাজ্যজুড়ে আল-সাইয়িদ (৫২.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে) ডেমোক্র্যাট নব-নিবাচিত গভর্নর জোসেলিন বেনসনের (যিনি ৫৪.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন) থেকে মাত্র ২ শতাংশ কম ভোট পান।
বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেট্রয়েটের উপশহর হান্টিংটন উডসের মতো এলাকাগুলোতে—যেখানে জনসংখ্যার প্রায় ৬৭ শতাংশ ইহুদি—আল-সাইয়িদ বেনসনের চেয়ে আরও পিছিয়ে পড়ে মাত্র ৬৫.৩ শতাংশ ভোট পান; বিপরীতে বেনসন পান ৮০ শতাংশ ভোট।
একই চিত্র দেখা গেছে ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডে, যেখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ ইহুদি। সেখানে আল-সাইয়িদ বেনসনের চেয়ে ৮.৮ শতাংশ কম ভোট পান। এই ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডেই গত মার্চ মাসে একটি সিনাগগে (ইহুদি প্রার্থনালয়) হামলা ঘটেছিল।
ওয়েস্ট ব্লুমফিল্ডের সিনাগগের নার্সারি স্কুলে হামলার চেষ্টার ঘটনার পর করা কিছু মন্তব্যের জন্য ইহুদি সম্প্রদায়ের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ার পর, গত আগস্ট মাসে আল-সাইয়িদ ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। এই ডেমোক্র্যাট মনোনীত প্রার্থী ক্ষমা চেয়ে বলেছিলেন যে, তার মন্তব্যগুলোর মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল পরিস্থিতি ও ’প্রেক্ষাপট’ ব্যাখ্যা করা।
ওই হামলার চেষ্টার পরপরই দেওয়া এক বিবৃতিতে আল-সাইয়িদ লিখেছিলেন, ‘আঘাত পাওয়া মানুষই অন্যকে আঘাত করে,’ এবং তিনি উল্লেখ করেন যে হামলাকারী লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলায় তার পরিবারকে হারিয়েছিলেন। তবে 'টেম্পল ইসরাইল' সিনাগগের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ইহুদি ককাসের সদস্যরা তার এই বক্তব্যকে ’আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেন এবং অনেকে তার বিরুদ্ধে অপরাধের দায় ভুক্তভোগীদের ওপর চাপানোর অভিযোগ তোলেন।
পলিটিকোর সাথে আলাপকালে আল-সাইয়িদ বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে যে ইহুদি ভোটাররা তাকে সমর্থন করেননি, তিনি ’আশা করেন যে ভবিষ্যতে তাদের সমর্থন জয় করতে পারবেন।’
আল-সাইয়িদ পলিটিকোকে বলেন, ’ইহুদি সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল, তা হলো ইসরায়েল নিয়ে আমার অবস্থান।’
নবনির্বাচিত এই সিনেটর বলেন, ’আমি আমার অবস্থান পরিবর্তন করবো না, তবে… আমরা যেসব বিষয়ে একমত—যেমন ইউনিয়নের অধিকার, স্বাস্থ্যসেবার অধিকার, পরিচ্ছন্ন বাতাস, নিরাপদ পানি, ধর্মীয় বহুত্ববাদ কিংবা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা—সেসব বিষয়ে আমি নেতৃত্ব দিতে চাই। এবং আমি আশা করি সময়ের সাথে সাথে এসব ইস্যুতে আমি তাদের সমর্থন অর্জন করতে পারবো।’
তিনি আরো যোগ করেন, ’আমার ক্ষেত্রে, বাইরে যা দেখছেন ভেতরেও আমি হুবহু সেটাই। আমি যা নই, নিজেকে তেমনটা কখনো কারো কাছে জাহির করিনি। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। তবে আমি সৎ, নির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাষী থাকবো। সময়ের সাথে সাথে আশা করি আমি যে বিষয়গুলোতে নেতৃত্ব দিতে চাই এবং সবার সেবা করার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবো।’
পলিটিকো আরো যোগ করে যে, ইহুদি ভোটাররা মিশিগানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.৪ শতাংশ এবং তারা ঐতিহ্যগতভাবেই ডেমোক্র্যাটদের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়ে থাকেন। তবে ইসরাইলকে সমর্থন দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে বিভাজন এবং ক্রমবর্ধমান ইহুদিবিদ্বেষ সংক্রান্ত উদ্বেগ ইহুদি ভোটারদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।
পলিটিকোর সমীক্ষায় দেখা গেছে, বেশিভাগ ইহুদি আগাম ভোটার শেষ পর্যন্ত আল-সাইয়িদকেই সমর্থন করেছেন। তবে ২০২৪ সালে আগের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে সমর্থন করা ইহুদি ভোটারদের প্রায় ২৫ আল-সাইয়িদ এবার আল-সাইয়িদের পরিবর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে ভোট দিয়েছেন।
সূত্র : জেরুসালেম পোস্ট
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








