
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা মেজর নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে দেশটিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এভাবে মৃত্যুদণ্ডকে জনসমক্ষে প্রদর্শনীতে পরিণত করা মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী। এতে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোও নিজেদের প্রচারের সুযোগ পাবে।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু শনিবার (১০ অক্টোবর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা ও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাসানের সাজা আগামী ৩ ডিসেম্বর একই সেনাঘাঁটিতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে কার্যকর করা হবে।
সাবেক সেনা মনোরোগ চিকিৎসক হাসানকে ২০১৩ সালে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার ১৩টি এবং হত্যাচেষ্টার ৩২টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এরপর থেকে তাকে কানসাসের ফোর্ট লিভেনওয়ার্থে রাখা হয়েছে। সোমবার পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ অনুমোদন করেছেন।
এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন মার্কিন রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলের নেতারাই। উত্তর ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘হাসানের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। কিন্তু সেই দণ্ড জনসমক্ষে কার্যকর করে সরাসরি সম্প্রচার করা? এটা চরম ঘৃণ্য।’
তিনি আরো লিখেছেন, তার ভাষায়, ‘ইরান ও আফগানিস্তানের মতো নিপীড়ক স্বৈরশাসিত দেশগুলোতে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে এমনটা হওয়া উচিত নয়।’
ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক জাতীয় সন্ত্রাসবাদবিরোধী কেন্দ্রের পরিচালক জো কেন্টও এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে মার্চে পদত্যাগ করা কেন্টের আশঙ্কা, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সম্প্রচার করলে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো তা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করবে।
এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘তার মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করা শুধু আমাদের নৈতিকতার জন্য কলঙ্ক নয়, সন্ত্রাসীদেরও বিনা মূল্যে প্রচারের সুযোগ করে দেবে। তারা এর সাহায্যে হাসানের মতো আরো সন্ত্রাসীক দলে টানার ও মানুষকে উগ্রপন্থায় দীক্ষিত করতে পারবে।’
ডেমোক্র্যাট নেতারাও একই উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আয়োজন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বদলে বিচারব্যবস্থাকে লোকদেখানো প্রদর্শনীতে পরিণত করবে।
প্রতিনিধি পরিষদের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ বলেছেন, প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে তা ‘আমাদের বিচারব্যবস্থাকে প্রহসনে পরিণত করবে’।
সিনেটর প্যাটি মারে পেন্টাগনকে এ পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, সহিংসতাকে মহিমান্বিত না করেও দোষী ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।
এক্সে মারে লিখেছেন, ‘সহিংসতাকে মহিমান্বিত না করেও আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারি। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য জনসমক্ষে প্রচার করে তাকে প্রদর্শনীতে পরিণত করার প্রয়োজন নেই।’
সিনেটর রুবেন গালিয়েগো আরো কঠোর ভাষায় এ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি না করেও মার্কিন সরকার ও ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে পারেন।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








