ইরান, যুদ্ধ, মার্কিন, আকাশযান, ক্ষতিগ্রস্ত,  ধ্বংস,
ইরান যুদ্ধে ৩৩০ কোটি ডলারের ৮১টি মার্কিন বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি নানা ধরনের আকাশযান অর্থাৎ সামরিক বিমান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব হারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত আকাশযানের আর্থিক মূল্য ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ যুদ্ধবিমান এবং ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান।

Advertisement

নিউ ইয়র্ক পোস্ট এবং হিন্দুস্তান টাইমস বুধবার (৭ অক্টোবর) জানায়, কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের নতুন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১২টি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমানের মধ্যে তিনটি ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে ফ্রেন্ডলি ফায়ার নামে পরিচিত নিজেদের বাহিনীর ভুল হামলায় ভূপাতিত হয়। প্রতিটির দাম ছিল ৩ কোটি ডলারের বেশি। পরের মাসে আরো একটি এফ-১৫ই ইরানের আকাশে ভূপাতিত হয়। ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের বিমান হামলায় আরো আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এসব বিমান আবারো কাজে ফিরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতির আরেকটি ঘটনা হলো অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানো। প্রতিটি ড্রোনের দাম ৩ থেকে ৫ কোটি ডলারের মধ্যে। এর ফলে এসব ড্রোনের সংখ্যা কমে ১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে বলে মে মাসে মার্কিন বিমানবাহিনীর এক জেনারেল সিনেটে জানিয়েছিলেন। বিমানবাহিনীর হিসাবে, যেকোনো সময় মোতায়েনযোগ্য রিপার ড্রোনের সংখ্যা অন্তত ১৮৯টি থাকার কথা।

ইরানের হামলায় ১৯ মার্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয় পঞ্চম প্রজন্মের এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানও। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। প্রতিটির দাম ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস আরো জানিয়েছে, ২৭ কোটি ডলার মূল্যের একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০১৫ সালে মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে এ ধরনের ৩২টি বিমান ছিল।

এপ্রিল মাসে একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু স্থল আক্রমণকারী বিমান হারায় যুক্তরাষ্ট্র। সেপ্টেম্বরে জর্ডানে হামলার সময় আরেকটি এ-১০ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ইরানের মটিতে বিধ্বস্ত  মার্কিন এমকিউ-৪ ড্রোন

 

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হারানো বা ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামের তালিকায় রয়েছে ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ যুদ্ধবিমান, দুটি এ-১০ ‘ওয়ারথগ’ আক্রমণকারী বিমান, সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, একটি ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমান, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিশেষ অভিযান বিমান, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু যুদ্ধ-উদ্ধার হেলিকপ্টার, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘসময় উড়তে সক্ষম ড্রোন, তিনটি এমকিউ-১ বহুমুখী ড্রোন, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি আক্রমণকারী হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হালকা আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক সামুদ্রিক হেলিকপ্টার।

এদিকে, গত মাসে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ব্যয় বেড়ে ৪৩৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগস্টের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ৫০০ কোটি ডলার। একই সময়ে অস্ত্রের খরচও এক মাসের কিছু বেশি সময়ে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অস্ত্রের খরচ ২১৭০ কোটি ডলার বলা হলেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাবে তা বেড়ে হয়েছে ২৮১০ কোটি ডলার।