দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিলারদের গুদাম লুট করে কৃত্রিম সার সঙ্কট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)। সংগঠনটির দাবি, একটি কুচক্রী মহল অসৎ ও অনিবন্ধিত সার ব্যবসায়ীদের ব্যবহার করে সার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে ডিলারদের গুদামে সার মজুদ, বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের কাছে সার বিক্রি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে বিএফএ। একইসাথে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা নীতিমালাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএর চেয়ারম্যান মো: মোশারফ হোসেন এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত সার মজুদ থাকার পরও সম্প্রতি বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় একটি কুচক্রী মহল সার সঙ্কট তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ডিলারদের গুদাম লুট করে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং পরে সেই সঙ্কটকে পুঁজি করে কৃষকের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির চেষ্টা হতে পারে বলে সংগঠনটি আশঙ্কা করছে।
বিএফএ বলেছে, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনটি সরকারের মাসিক বরাদ্দ অনুযায়ী কৃষক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহে সহযোগিতা করে আসছে। সরকারের ভর্তুকির আওতায় বেসরকারি পর্যায় থেকে আমদানি করা নন-ইউরিয়া সারও সরকারি ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদনের ধারা স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সাথে ভবিষ্যতেও সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংগঠনটি।
ডিলারদের উদ্দেশে বিএফএ বলেছে, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিএডিসি, বিসিআইসি ও বেসরকারি পর্যায়ে জেলাভিত্তিক ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের যে বরাদ্দ দেয়া হয়, বরাদ্দপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিয়ে সার উত্তোলন করতে হবে। উত্তোলন করা সার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিজ নিজ গুদামে মজুদ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে।
উত্তোলন করা সারের আগমনী বার্তা সংশ্লিষ্ট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করার নির্দেশনাও দিয়েছে বিএফএ। গুদামে মজুদ সার কৃষক পর্যায়ে বিক্রির সময় অবশ্যই বিক্রয় রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
কোনো ডিলার, খুচরা বিক্রেতা কিংবা অন্য কেউ যাতে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিএফএর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে প্রতিটি ডিলারের বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কুচক্রী মহলের কেউ অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি করে পরবর্তী সময়ে সেই দায় যেন ডিলারের ওপর চাপিয়ে দিতে না পারে, সেদিকেও ডিলারদের সতর্ক থাকতে হবে। এ জন্য সার বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথ রেজিস্টার সংরক্ষণ ও স্থানীয় প্রশাসন এবং কৃষি বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
নীতিমালাবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ডিলারশিপ বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিএফএ। সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএফএর কোনো করণীয় থাকবে না।
সার উত্তোলন ও নিরবচ্ছিন্ন বিতরণে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় বিএফএর সার-সংক্রান্ত মনিটরিং সেলে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ জন্য বিএফএর ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: জহিরুল ইসলামের ০১৯২২-১৫৩৫০০ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
বিএফএর চেয়ারম্যান মো: মোশারফ হোসেন দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।



