চুরি, ডাকাতি, চোরাচালান, মানবপাচার, কিশোর গ্যাং, জুয়া ও মাদকের ভয়াবহতা থেকে সমাজকে রক্ষা করতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এক মাদকবিরোধী সমাবেশ ও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল ৫টায় জীবননগর থানা ও ৪ নম্বর সীমান্ত ইউনিয়নবাসীর যৌথ উদ্যোগে গোয়ালপাড়া হালসানা মোড়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ১৬ মাদক কারবারি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মাদক ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ অভিশাপ। কেবল আইন প্রয়োগ করে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; এজন্য প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা ও সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রয়াস। যারা অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান, তাঁদের সমাজের মূলধারায় আসার সুযোগ দিতে হবে।’
তবে মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও সেবনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সমাবেশে আত্মসমর্পণকারী ১৬ জন মাদক কারবারিকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং ভবিষ্যতে সৎ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শপথ পাঠ করানো হয়। অপরাধের পথ থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিরা সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি চুরি, ডাকাতি ও চোরাচালান রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।



