বদলগাছীতে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মুয়াজ্জিন মো: মাহফুজ রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

Location :

Badalgachhi
বদলগাছী মডেল মসজিদ
বদলগাছী মডেল মসজিদ |নয়া দিগন্ত

বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মুয়াজ্জিন মো: মাহফুজ রহমানের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর স্বাক্ষর জাল করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা প্রাথমিকভাবে ধরা পড়ায় অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলা প্রশাসন, ধর্মীয় অঙ্গন ও স্থানীয় জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলা মডেল মসজিদের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক।

অভিযোগ রয়েছে, গত ৩০ জুলাই দুপুরে মো: মাহফুজ রহমান পরিচালনা কমিটির কোনো অনুমোদন বা সিদ্ধান্ত ছাড়াই একটি চেকে ইউএনও’র স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংকে জমা দেন এবং সরকারি অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করেন।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চেকে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ হলে কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাক্ষর যাচাই করেন। যাচাই-বাছাইয়ে স্বাক্ষরের অসঙ্গতি ধরা পড়লে অর্থ উত্তোলন স্থগিত করা হয় এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। ফলে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি থেকে সরকারি অর্থ রক্ষা পায়।

এদিকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নুরে আলম বলেন, ‘চেকের স্বাক্ষরে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় অর্থ উত্তোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে মো: মাহফুজ রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনি বলেন, ‘স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগটি আমরা জেনেছি। সরকারি অর্থ সংক্রান্ত চেকে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।