
ভারতের প্রখ্যাত সানাইবাদক ও ভারতরত্নপ্রাপ্ত ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাড়ির একাংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান ও বিরোধী নেতা অখিলেশ যাদব। তবে বাড়িটি ভাঙার সাথে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বারানসির পৌর কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, বাড়ির মালিক ও বিসমিল্লাহ খানের পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সিদ্ধান্তেই বাড়ির একাংশ ভেঙেছেন। সেখানে জাদুঘর নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হলেও পরিবার তাতে সম্মতি দেয়নি।
শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বাড়ি ভাঙার ঘটনাকে ‘চরম নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করেন অখিলেশ যাদব।
তিনি হিন্দিতে লেখেন, ‘যাদের জন্য সানাই বাজেনি, তাদের কাছ থেকে আর কী-ই বা আশা করা যায়?’
অখিলেশ যাদব বলেন, বিজেপি ও তাদের সংকীর্ণ মানসিকতার সহযোগীরা সব সময় শিল্প ও শিল্পীদের বিরোধিতা করে আসছে। কারণ, তাদের রক্ষণশীল চিন্তাভাবনা অত্যন্ত সংকীর্ণ। অথচ সৃজনশীল মানুষেরাই সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করেন এবং পরিবর্তনের পরিবেশ গড়ে তোলেন।
তিনি আরো বলেন, ইতিবাচক শিল্প মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সহনশীলতা সৃষ্টি করে। এ কারণেই তারা শিল্পের প্রতিটি ধারাকে নিজেদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডার পথে বাধা হিসেবে দেখে। অন্যথায় শিল্পকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নেতিবাচক রূপ দিতে চায়।
অখিলেশ যাদবের ভাষায়, ‘ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত একজন মানুষের সম্মিলিত ঐতিহ্য ধ্বংস করা মানে শুধু তার মর্যাদা ও সম্মান নষ্ট করা নয়, বরং ভারতের সম্মানও ক্ষুণ্ন করা। ঘৃণার আগুনে পুড়ে বিজেপি দেশের ক্ষতি করছে।’
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ক্ষমতায় এলে ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের সঙ্গীত ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি ‘শ্রবণ জাদুঘর’ নির্মাণ করবে তার দল।
জাদুঘর নির্মাণে পরিবারের সম্মতি মেলেনি : পৌর কর্তৃপক্ষ
তবে অখিলেশ যাদবের অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে বারানসির পৌর করপোরেশন। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণের উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিসমিল্লাহ খানের বাড়িতে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা এতে সম্মতি দেননি।
পৌর করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সন্দীপ শ্রীবাস্তব বলেন, শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এর আওতায় তাদের জীবন ও অবদানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ির সংযোগ সড়কগুলো সাজানো এবং প্রতিটি বাড়ির একটি কক্ষকে জাদুঘরে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতরত্ন ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খানের বাসভবনে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তার পরিবারের সাথে আলোচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবার এ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ভবনটি জরাজীর্ণ উল্লেখ করে তারা নিজেরাই বাড়িটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।’
সন্দীপ শ্রীবাস্তব আরো জানান, পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় পৌর করপোরেশন সেখানে জাদুঘর নির্মাণ করতে পারেনি। বাড়ি ভাঙার প্রক্রিয়াতেও পৌর কর্তৃপক্ষের কোনো ভূমিকা ছিল না।
এদিকে চক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজয় কুমার শুক্লা জানান, বাড়ির মালিক নিজেই ভবনটি ভাঙার কাজ করছেন। এর আগে বাড়িটির জরাজীর্ণ অবস্থা নিয়ে পৌর করপোরেশন থেকে একটি নোটিশ দেয়া হয়েছিল।
বাড়ির কয়েকটি অংশ ভাঙা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধ দেখা দেয়ায় তারা থানায় এসেছিলেন। তবে সেই বিরোধের সমাধান হয়েছে। বর্তমানে মালিক নিজের সম্পত্তি নিজ উদ্যোগেই ভাঙার কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
সূত্র : টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








