
নিজস্ব প্রতিবেদক
রিহ্যাব নেতৃত্বের একটি অংশ চায় না সংগঠনটি সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে যাক। এই অংশটি বার বার রিহ্যাবের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে এই অংশটি কিছু কল্পিত অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এফিলিয়েটেড সংগঠন হওয়ায় রিহ্যাবের কার্যনির্বাহী কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে কিছু কল্পিত অভিযোগ জমা দিয়ে রিহ্যাবের বর্তমান নেতৃত্বকে সরিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৪ সেপ্টেম্বর রিহ্যাব প্রেসিডেন্টের পদ শূন্য ঘোষণা করে। কিন্তু উচ্চ আদালতে গেলে আদালত রিহ্যাবের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে বাধা নেই মর্মে আদেশ জারি করে।
গত ১৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে রিহ্যাবকে রুটিন কার্যক্রমের বাইরে অন্য কোনো ধরনের সভা ও কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। এতে সংগঠনটির বোর্ড সভা, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), আবাসন মেলাসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই আদেশের বিরুদ্ধে রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রাজ্জাকের দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৭ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন। হাইকোর্টের ওই আদেশে রিহ্যাবে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসে। কিন্তু ৫ নভেম্বর আবারো রিহ্যাবের একজন নির্বাচিত সদস্য হাইকোর্টের ১ নভেম্বরের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চায় বলে জানা গেছে। তবে জানা গেছে, ওই সদস্যের আবেদন হাইকোর্টে রিফিউজ করে দেন। ফলে আগামী তিন মাসের জন্য রিহ্যাবের কার্যক্রমে আর কোনো বাধা থাকল না।
রিহ্যাবের নির্বাচিত নেতৃত্বের একটি অংশ রিহ্যাবের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিটি কাজে বাধার সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা চাচ্ছেন না, বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বে অধীনে রিহ্যাবের আবাসন মেলা হোক। আবাসন মেলা রিহ্যাবের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান। এই মেলার মাধ্যমে আবাসন ব্যবসায়ীরা মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে থাকেন। এই মেলার মাধ্যমেই ফ্ল্যাট বিক্রি বেশি হয়ে থাকে। ক্রেতারা এই মেলাতে এসেই আবাসন ব্যবসায়ীদের তৈরি করা ফ্ল্যাটের নানা তথ্য জেনে থাকেন। এক ছাদের নিচে অনেক কোম্পানির প্রকল্প সম্বন্ধে বিস্তারিত অবগত হয়ে থাকেন। মেলার স্পটে খুব বেশি বিক্রি না হলেও সারা বছর এই মেলাকে সূত্র ধরেই ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ বাড়ে আবাসন ব্যবসায়ীদের। ফলে শীতকালের ওই মেলাকে আবাসন ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে রিহ্যাব নেতৃত্ব খুব গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কিন্তু বতর্মান রিহ্যাবের নির্বাচিত একটি ক্ষুদ্র অংশ বার্ষিক ওই মেলা যাতে অনুষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য নানা ধরনের অপচেষ্টায় লিপ্ত বলে জানা গেছে। ওই অপচেষ্টার অংশ হিসেবেই রিহ্যাবের নির্বাচিত নেতৃত্বের ক্ষুদ্র অংশটি শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে পর্যন্ত গিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাকে অটুট রাখতে। গত ১ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চাইলে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ তার আবেদনটি খারিজ করে দেন। ফলে এদের সর্বশেষ তৎপরতাও হালে পানি পায়নি বলে এরা বেশ হতাশায় ভুগছে। হাইকোর্টের দেয়া আদেশটি কার্যকর রয়েছে। এর ফলে রিহাব সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। রিহ্যাবের মতো দেশের গুরুত্বপূর্ণ আবাসন খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা এবং সংগঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








