
আলমগীর কবির
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাওরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রচলিত জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। তার মতে, ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকার মোবাইল ফোনের টাওয়ার ডাম্প, কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর), প্যাসিভ লোকেশন, এসএমএস এবং ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করা হলে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া সম্ভব। একই সাথে দ্রুত ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণ না করলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাহসিফ হত্যা মামলার তদন্ত, ডিজিটাল ফরেনসিকের গুরুত্ব, সিসিটিভি ফুটেজের গ্রহণযোগ্যতা, ময়নাতদন্ত ও বিষক্রিয়া পরীক্ষার ফল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা বক্তব্যের প্রভাব নিয়ে নয়া দিগন্তের সাথে কথা বলেছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। নিচে তার সাক্ষাৎকারের বিস্তারিত-
প্রশ্ন : তাহসিফ হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত কোন বিষয়গুলোকে?
তানভীর হাসান জোহা : আমার কাছে ঘটনা সেটাই, যেটার পক্ষে ডিজিটাল এভিডেন্স পাওয়া যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কে কী বললেন, কে কী দাবি করলেন কিংবা মানুষের মুখে কী আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো দিয়ে কোনো হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যায় না। ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় কারা ছিলেন, কারা কোথায় গেছেন, কারা কার সাথে যোগাযোগ করেছেন- এসব তথ্য প্রযুক্তিগতভাবে বিশ্লেষণ করা জরুরি। বিশেষ করে টাওয়ার ডাম্প, কল ডিটেইল রেকর্ড, প্যাসিভ লোকেশন, এসএমএস ও অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।
প্রশ্ন: টাওয়ার ডাম্প বলতে কী বোঝায়? এ মামলায় এটি কীভাবে কাজে আসতে পারে?
জোহা : কোনো নির্দিষ্ট মোবাইল নেটওয়ার্ক সেলের আওতায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে যতগুলো ফোন সক্রিয় ছিল, সেগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করাই মূলত টাওয়ার ডাম্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এর মাধ্যমে কোন ফোন কখন নেটওয়ার্কে যুক্ত ছিল, কখন বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং পরে কোথায় আবার সক্রিয় হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা যায়।
ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি ঘটনার আগে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করলেন। পরে ফোন বন্ধ করে অন্য এলাকায় গিয়ে আবার চালু করলেন। নেটওয়ার্কের তথ্য, সংশ্লিষ্ট সময় ও অন্যান্য ডিজিটাল আলামত মিলিয়ে তার গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তবে টাওয়ার ডাম্প দিয়ে এককভাবে কারও সুনির্দিষ্ট অবস্থান বা অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করা যায় না। এটি অন্য ডিজিটাল ও ভৌত প্রমাণের সাথে মিলিয়ে বিশ্লেষণ করতে হয়।
প্রশ্ন : এ ধরনের ঘটনায় টাওয়ার ডাম্প সংগ্রহের ক্ষেত্রে সময় কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
জোহা : সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পর যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরদের কাছে তথ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। আমি মনে করি, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাওয়ার ডাম্প সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া উচিত। কারণ, সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন ডিজিটাল তথ্যের প্রাপ্যতা ও সংরক্ষণসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। ছয় মাস পর এসব তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে অনেক কিছু হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
প্রশ্ন : অতীতে টাওয়ার ডাম্প বিশ্লেষণের মাধ্যমে অপরাধের সূত্র উদ্ঘাটনের কোনো অভিজ্ঞতা রয়েছে কি?
জোহা : অতীতে বোমা হামলাসহ কয়েকটি আলোচিত মামলায় টাওয়ার ডাম্প বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একটি মামলায় দেখা গিয়েছিল, ঘটনার ৫ মিনিট আগে একসাথে বেশ কয়েকটি আইএমইআই নম্বরের ফোন বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেগুলো দূরবর্তী এলাকায় চালু হয়। এই অস্বাভাবিক গতিবিধি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে কাজ করেছিল।
তবে তাহসিফ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত টাওয়ার ডাম্প সংগ্রহ বা বিশ্লেষণের বিষয়ে আমার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। তদন্তকারী সংস্থা এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন : শুধু মোবাইল ফোনের তথ্য নয়, আর কোন কোন ডিজিটাল আলামত দ্রুত সংরক্ষণ করা প্রয়োজন?
জোহা : তাহসিফের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড, এসএমএস, যোগাযোগের তথ্য, প্যাসিভ লোকেশন, আইক্লাউড ও গুগল অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের ডিজিটাল ডেটা সংরক্ষণ করা জরুরি। তার ব্যবহৃত আইফোন, সম্ভাব্য ম্যাকবুক, অন্য ডিভাইস এবং অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য সংরক্ষণের অনুরোধ পাঠানো যেতে পারে। গুগল, আইক্লাউডসহ সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে ডেটা প্রিজারভেশনের অনুরোধ পাঠানো দরকার। তারা তথ্য সরবরাহ করুক বা না করুক, অন্তত তথ্য সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রশ্ন : আসামি দীপের সাথে তাহসিফের সম্ভাব্য যোগাযোগ, এসএমএস আদান-প্রদান কিংবা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অর্থ লেনদেনের যেসব আলোচনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, সেগুলো কতটা গুরুত্ব পাওয়া উচিত?
জোহা : এসব বিষয় প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এ ধরনের লেনদেন বা যোগাযোগের বিষয়ে আমার কাছে কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো অভিযোগ বা আলোচনা ছড়িয়ে পড়লেই সেটিকে সত্য ধরে নেয়ার সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্ট ফোনের তথ্য, বার্তা, অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণের মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের জন্য প্রমাণ প্রয়োজন।
প্রশ্ন : সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ভিডিও ছড়াচ্ছে। এগুলো তদন্তে কতটা নির্ভরযোগ্য?
জোহা : সিসিটিভি ফুটেজ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ আলামত। কিন্তু বিভিন্ন স্থানের মনিটর থেকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া ফুটেজের ওপর নির্ভর করে তদন্ত করা ঠিক হবে না। আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ক্যামেরার মূল রেকর্ডিং ও সংরক্ষণব্যবস্থা থেকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফুটেজ জব্দ করতে হবে।
হার্ডড্রাইভ বা মূল রেকর্ডিং ডিভাইস থেকে ফুটেজ সংগ্রহ করা উচিত। মনিটর থেকে ভিডিও করে আনা ফুটেজের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। মূল ফুটেজের সময়, স্থান, ধারাবাহিকতা ও সত্যতা যাচাই করাও জরুরি।
অনলাইনে প্রচারিত কয়েকটি ফুটেজ আমি নিজেও দেখেছি। সেগুলোর কিছুতে দৃশ্যমান ব্যক্তির শারীরিক গঠন ও উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই শুধু পোশাক বা অস্পষ্ট দৃশ্য দেখে কাউকে তাহসিফ হিসেবে শনাক্ত করা উচিত নয়। মূল ফুটেজ, সময়, স্থান এবং অন্যান্য আলামত মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশ্ন : তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার গুরুত্ব কতটা?
জোহা : অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, রক্ত ও অন্যান্য নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে মৃত্যুর আগে কোনো মাদক বা রাসায়নিক পদার্থ গ্রহণ করা হয়েছিল কি না, শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ ছিল কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী- এসব বিষয়ে ধারণা পাওয়া সম্ভব।
ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার ফলের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো অনিষ্পন্ন থেকে যেতে পারে। তাই এসব পরীক্ষার ফল দ্রুত এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রকাশ করা প্রয়োজন। তবে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদন ও পরীক্ষার ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
প্রশ্ন : তাহসিফের সাথে দিশা ও দীপের সম্পর্ক, ঘটনার আগের রাতের কথিত বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। এসব বিষয় তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে কি?
জোহা : এসব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ককে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে ধরে নেয়া ঠিক হবে না। একজন অবিবাহিত ছেলে ও একজন মেয়ের একসাথে চলাফেরা করা স্বাভাবিক বিষয়। সেটিকে কেন্দ্র করে যৌনতা, মাদক কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা তদন্তকে ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে।
কার সাথে কার সম্পর্ক ছিল, ঘটনার দিন কার সাথে কথা হয়েছে, কারো সাথে বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না- এসব বিষয় কল রেকর্ড, বার্তা, লোকেশন ডেটা, সাক্ষ্য ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসতে পারে; কিন্তু সেটির সাথে সম্পূরক প্রযুক্তিগত তথ্য ও প্রমাণ থাকতে হবে। মানুষের রটনা কোনো ঘটনা নয়। ডিজিটাল এভিডেন্সে যা পাওয়া যাবে- সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন : তাহসিফকে কেউ অনুসরণ করছিল কি না, কিংবা ঘটনার আগে ও পরে একই ব্যক্তির সাথে তার অবস্থানগত কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা কিভাবে যাচাই করা সম্ভব?
জোহা : তাহসিফের ব্যবহৃত ফোনের সিডিআর ও লোকেশন ডেটা বিশ্লেষণ করে তার গতিবিধির সাথে অন্য কোনো ব্যক্তির গতিবিধির মিল পাওয়া যায় কি না, তা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ঘটনার আগে ও পরে একই ব্যক্তি বা ডিভাইস তার আশপাশে অবস্থান করেছিল কি না, তা প্রযুক্তিগতভাবে যাচাই করা যেতে পারে।
এ ছাড়া তাহসিফের সাম্প্রতিক পডকাস্টে উঠে আসা বক্তব্যগুলোও তদন্তের প্রয়োজনে বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে। সেখানে মাইলস্টোন স্কুল, এভিয়েশন খাতের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিষয়ে তার বক্তব্য ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যের সাথে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ আমার কাছে নেই। তদন্তকারীরা সম্ভাব্য সূত্র হিসেবে বিষয়গুলো যাচাই করতে পারেন।
প্রশ্ন : তাহসিফের ব্যবহৃত ফোনের পাশাপাশি অন্য ডিভাইস ও অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্যও কি তদন্তে আনা উচিত?
জোহা : অবশ্যই। একটি ফোনের তথ্য দিয়ে সব সময় পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না। তার ব্যবহৃত আইফোন, সম্ভাব্য ম্যাকবুক, অন্যান্য ডিভাইস এবং বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্যও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। প্রয়োজনে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে আইনি প্রক্রিয়ায় তথ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহের অনুরোধ করতে হবে। ডিজিটাল তথ্যের সাথে অন্য আলামতের মিল খুঁজে বের করাই এখানে মূল বিষয়।
প্রশ্ন : তাহসিফ হত্যা মামলার তদন্ত দীর্ঘায়িত হলে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো আরেকটি অমীমাংসিত অধ্যায় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কি?
জোহা : এ ধরনের আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের শুরুতে যেভাবে আলামত ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত জীবন ও যৌনতা নিয়ে নানা আলোচনা সামনে এসেছিল, তাহসিফ হত্যা মামলাতেও কিছুটা একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে আমার মনে হয়েছে।
তদন্তের শুরুতেই আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষের নিজস্ব বক্তব্য তৈরি এবং গণমাধ্যমে যাচাইহীন তথ্য প্রচার প্রকৃত তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এভিডেন্স হচ্ছে সূর্যের আলোর মতো। সময়ের সাথে সাথে আলো যেমন ক্ষীণ হয়, এভিডেন্সও ক্ষয় হয়ে যায়। তাই দ্রুত আলামত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। মামলার তদন্তে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব যেন কাজ না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
প্রশ্ন : দিশা ও দীপকে দফায় দফায় রিমান্ডে নেয়া হচ্ছে। শুধু জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে কি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন সম্ভব?
জোহা : শুধু জিজ্ঞাসাবাদের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। রিমান্ডে আসামিরা কী বলছেন- সেটি তদন্তের একটি অংশমাত্র। তাদের দেয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে হবে। একই সাথে অন্য কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না- সেটিও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তদন্তকারী কর্মকর্তার দায়িত্ব হচ্ছে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে আদালতের সামনে উপস্থাপন করা। কে অপরাধী, সেটি নির্ধারণ করবেন আদালত। তদন্তকারী কর্মকর্তার বিচারক হওয়ার প্রয়োজন নেই। তার কাজ হচ্ছে প্রমাণ নিয়ে আসা।
প্রশ্ন : এ মামলার তদন্তে আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ কী?
জোহা : প্রথমত, টাওয়ার ডাম্প, সিডিআর, প্যাসিভ লোকেশন, এসএমএস ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য দ্রুত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাহসিফের ব্যবহৃত সব ডিভাইস ও অনলাইন অ্যাকাউন্টের তথ্য আইনি প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, সিসিটিভি ক্যামেরার মূল রেকর্ডিং জব্দ করে তার সত্যতা ও ধারাবাহিকতা যাচাই করতে হবে। চতুর্থত, ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার ফল দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।
সবচেয়ে বড় কথা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বক্তব্য, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে তদন্ত পরিচালনা করা যাবে না। প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সাথে সাক্ষ্য এবং অন্যান্য আলামতের মিল খুঁজতে হবে। সঠিকভাবে টাওয়ার ডাম্প, সিডিআর, প্যাসিভ লোকেশন, এসএমএস ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ করে আদালতে উপস্থাপন করতে পারলে ঘটনার অনেক অজানা দিক পরিষ্কার হয়ে আসতে পারে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








