দুর্নীতির দায়ে বদলি হয়েও আবার স্বপদে রেলওয়ে প্রকৌশলী
  •  বিল ভাউচারে দুর্নীতি ও কমিশন বাণিজ্য
  • শ্রমিক লীগ নেতার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পাচার

অনিয়মের অভিযোগে বদলি হয়েও বিপুল অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পুনরায় স্বপদে ফিরে নতুন উদ্যোমে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩/ঢাকা কাজী ওয়ালী উল হকের বিরুদ্ধে। নিয়মনীতি ছাড়াই মালামাল বিক্রি, প্রকল্পের আসবাবপত্র ক্রয় এবং উন্নয়ন কাজের বিল পরিশোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন বিল ভাউচারে দুর্নীতি, ঠিকাদারদের থেকে কমিশন ও ঘুষ বাণিজ্যের বিপুল পরিমাণ অর্থ আওয়ামী শ্রমিক লীগ নেতার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পাচার করার অভিযোগ রয়েছে।   
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গোপালগঞ্জের কোটায় চাকরি হওয়ায় কাজী ওয়ালী উল হক ২০২৪ সালের ১৬ মে বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩/ঢাকা পদে যোগ দেন। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই ওই পদ থেকে বদলি করা হয়। তবে আট মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের ১১ মার্চ তিনি পুনরায় একই পদে যোগ দেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নতুন উদ্যোমে দুর্নীতি করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।  
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সংযোগ সড়ক মেরামত ও কার্পেটিংয়ের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করলেও একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে। মূলত কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ভিআইপি গেট থেকে ওয়াটার এইডের টয়লেট পর্যন্ত সংযোগ সড়ক মেরামত ও কার্পেটিংয়ের চুক্তিমূল্য ছিল ৫৭ লাখ ৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কাজের এক শতাংশও যথাযথভাবে সম্পন্ন না করে তিনি সিকদার কনস্ট্রাকশনকে টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়া রেলওয়ের মালামাল বিক্রি ও আসবাবপত্র ক্রয়েও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, রেলওয়ের সেন্ট্রাল স্টোর কিংবা মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দফতর থেকে দেয়া নির্দেশনা অনুসরণ না করে কমলাপুর আইসিডি থেকে লোহা, গ্রিল ও স্টেইনলেস স্টিলের প্রায় ৩২ লাখ টাকার মালামাল মাত্র ছয় লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়। এতে অবশিষ্ট অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার, ঢাকা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় আখাউড়া-লাকসাম প্রকল্প থেকে অবমুক্ত হওয়া অফিসের আসবাবপত্র কেনাকাটায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি এফএএন্ডসিএও (পূর্ব)/সিআরবি, চট্টগ্রাম দফতরের অডিটে উঠে এসেছে এবং এ সংক্রান্ত আপত্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
জানা গেছে, গত জুন-জুলাই মাসে কয়েক লাখ টাকা অবৈধভাবে লেনদেন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রকৌশলী-৩/ঢাকার স্টেনোটাইপিস্ট মো: মনির হোসেনের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে তার বাবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে। এই মনির হোসেন রেলওয়ে শ্রমিক লীগ অনুমোদিত কমিটির অতিরিক্ত সম্পাদক ও  কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। কী কারণে তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওয়ালি উল এতগুলো টাকা নিজের বাবার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন তা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাজী ওয়ালী উল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একটিও সত্য নয়। তিনি বলেন, তদবীর নয়, কর্তৃপক্ষ যোগ্য মনে করেছেন বলেই পুনরায় আমাকে স্বপদে বহাল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা পাচারের বিষয়ে বলেন, ওই ব্যক্তি আওয়ামী লীগ নেতা কি না আমার জানা নেই। তবে আমার কলিগ। আমি চিকিৎসার জন্য আমার বাবার কাছ থেকে কিছু টাকা ধার করেছিলাম। সেই টাকা আমার কলিগের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করেছি, যাতে কেউ কোনো সন্দেহ করতে না পারে তাই সবাইকে জানিয়ে কলিগের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছি।

Advertisement