
এশিয়া টাইমস
গত কয়েক মাসে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার আক্রমণ যেমন তীব্র হয়েছে, তেমনি সেখানে ফাইবার-অপটিক ড্রোনের ব্যবহারও দেখা গেছে অত্যন্ত মারাত্মক এবং ধ্বংসাত্মকভাবে। এই ড্রোনগুলো চুল পরিমাপের সূক্ষ্ম ক্যাবলের মাধ্যমে চালকের সাথে সরাসরি যোগাযোগ বজায় রাখে। এর ফলে এগুলোকে ইলেকট্রনিক সিগন্যাল জামিংয়ের মাধ্যমে অকার্যকর করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা রণক্ষেত্রের উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু ২০২৫ সালে একটি দীর্ঘপাল্লার ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনে রাশিয়ার একমাত্র ফাইবার-অপটিক উৎপাদন কারখানাটি ধ্বংস করে দিলে ক্রেমলিনের এই ড্রোনের ব্যবহার চরম ধাক্কার মুখে পড়ে এবং কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। তবে চীনা প্রস্তুতকারকেরা খুব দ্রুতই এই শূন্যতা পূরণ করে এবং রাশিয়ার সামরিক অভিযান সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রুশ ড্রোনগুলোতে ব্যবহৃত নানা ধরনের চীনা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত উপকরণের মধ্যে ফাইবার-অপটিক ক্যাবল অন্যতম। প্রস্তুতকৃত বাণিজ্যিক ড্রোন সরবরাহের পাশাপাশি, যেগুলো পরবর্তীতে সামরিক কাজে উপযোগী করে তোলা যায়, চীনা প্রস্তুতকারকেরা রাশিয়ার তৈরি ড্রোনের প্রচুর মূল উপাদানও জোগান দিয়ে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোচিপ, ইঞ্জিন, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, ফাইভ-জি প্রযুক্তি এবং যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত মেশ মডেমের মতো অতীব জরুরি সরঞ্জাম।
বিশ্বজুড়ে যখন সামরিক ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র বড় অস্ত্রের বাজারে তার আধিপত্য আরো শক্তিশালী করেছে। মূলত ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের অস্ত্র ক্রয় বৃদ্ধি পাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া তার নিজস্ব তৈরি অধিকাংশ অস্ত্র ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারে বাধ্য হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক প্রধান প্রধান অস্ত্র রফতানির ৪২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের দখলে ছিল, যা ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ছিল ৩৬ শতাংশ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








