ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে দলগুলোর সাথে প্রেসিডেন্টের আলোচনা শুরু

 এএফপি
 নির্বাচনে বিভক্ত ফলাফলের পর ইসরাইলে সরকার গঠন নিয়ে  গতকাল বুধবার রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তবে অভিজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা তার প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট- কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পাননি।
প্রেসিডেন্টের পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও কে প্রথম সরকার গঠনের সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা তার হাতে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ, এমনকি কয়েক মাসও লেগে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত চেষ্টা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনও হতে পারে।
ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র মেরুকরণ এবং তিন বছরের যুদ্ধের পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হারজগ জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের বিষয়ে বিভিন্ন দলের নেতাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে এ সম্ভাবনা আরো জোরালো হয়েছে। 
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল গ্রহণের পর বুধবার বিকেল ৫টায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দুই দিনের আলোচনা শুরু করেছেন হারজগ। প্রথমে তিনি অতি জাতীয়তাবাদী দল রিলিজিয়াস জায়নবাদের নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, সব পক্ষের মতামত শোনার জন্য তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই ছোট দলগুলোর সাথে আলোচনা দিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার শেষ দিকে সবচেয়ে বড় দুই দল নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ এবং সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকটের প্রতিষ্ঠিত মধ্যপন্থী থেকে মধ্য-ডানপন্থী বিরোধী দল ইয়াশারের সাথে বৈঠক করবেন তিনি। ১২০ সদস্যের ইসরাইলি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন। কিন্তু নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট- কেউই এ সংখ্যা অর্জন করতে পারেননি।
আসন সংখ্যার হিসেবে নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে রয়েছে। তাদের আসন ৫৩টি। অন্যদিকে আইজেনকটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আরব সংখ্যালঘুদের দলগুলোর সাথে জোট গঠন করলে আইজেনকট ৬১ আসনের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেন। নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী সরকারের প্রতি ক্ষোভের কারণে এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর আসন বেড়ে ১৯টিতে দাঁড়িয়েছে। 
তবে বিরোধী জোটের কয়েকজন নেতা অ-ইহুদি আইনপ্রণেতাদের ভোটের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনে আপত্তি জানিয়েছেন। নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে বাদ দিয়ে বৃহত্তর জোট সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আরব দলগুলো নির্বাচনে ভোট ‘চুরি’ করেছে।
এদিকে, আরব-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা জানাতে মঙ্গলবার গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ জমা দেয়া হয়নি। আরব-ইসরাইলি নেতারা এ অভিযোগ জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অন্যদিকে, মঙ্গলবার আইজেনকট অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ‘পোগ্রম’ বা পরিকল্পিত নিপীড়ন চালানোর চেষ্টা করছে।

Advertisement