সাফে বাংলাদেশের শিরোপার সম্ভাবনা কতটুকু

 ক্রীড়া প্রতিবেদক 
সাফ ফুটবলের ইতিহাসে বাংলাদেশ একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তা ২০০৩ সালে ঢাকার মাঠে। আগামীকাল থেকে ফের ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সাফ ফুটবলের। প্রথম দিনেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সাফ ফুটবল এখনো বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপতুল্য। তবে একবার ট্রফি হাতে নেয়া আর দু’বার ফাইনালে হারা ছাড়া আর কোনো অর্জন নেই। এবার নিজ মাঠে সাফ খেলতে যাচ্ছে লাল-সবুজরা। দলে যুক্ত হয়েছেন হামজা চৌধুরীর। আছেন শমিত শোম, জায়ান আহমেদ, ফারহান আলী ওয়াহেদের মতো খেলোয়াড়রা। স্থানীয় রাকিব, ফাহিম, তপুরাও দলের অন্যতম শক্তি। এই বাংলাদেশ দলের পক্ষে কি এবারের সাফে শিরোপা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। ২০০৩ সাফ ফুটবল জয়ী বাংলাদেশ দলের চার সাইফুর রহমান মনি, রজনী কান্ত বর্মন, আলফাজ আহমেদ ও আরমান মিয়ারা ভিন্ন ভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করলেন। স্ট্রাইকার মনির মতে, বেশ কঠিন এই মিশন। তবে আশার কথা শোনালেন আরমান মিয়া ও রজনীরা। 
গতকাল ছিল ফিফা অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ^কাপ ফেস্টিভাল খেলে টায়ার ‘ই’তে খেলা রানার্সআপ হওয়া বাংলাদেশ দলের সংবর্ধনা। বাফুফে ভবনে এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা সাবেক ফুটবলাদের মধ্যে ছিলেন সাফ জেতা এই চার সদস্যও। ওই সাফে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন রজনী কান্ত বর্মণ। ভারতে থাকাকালীন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ডান পা ভেঙে গেছে তার। এখন আছেন বাংলাদেশে। এই স্টপার ব্যাকের মতে, ‘এবার আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ। খেলা হবে নিজেদের মাঠে। নিজস্ব দর্শক, পরিচিত পরিবেশ সবই আমাদের অনুকূলে থাকছে। তাই আমার মতে বাংলাদেশের শিরোপা পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনাটা অনেক বেশি।’ এর পরই জানান, এখন বাংলাদেশ দলে মিডফিল্ডে হামজার মতো খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, আরো ভালো মানের প্রবাসীরা আছেন, যা আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাসটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে এবার যদি বাংলাদেশ দল এত সুবিধা নিয়েও চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে তাহলে মনে হয় না আর কোনো দিন সাফে ট্রফি হাতে নিতে পারবে। 
২০০৩ সাফে আলফাজ আহমেদের গোলে নেপালের বিপক্ষে জয়ে আসর শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পরে ফাইনালে গোলরক্ষক আমিনুল হকের একটি টাইব্রেকার ঠেকানোর সুবাদে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সাবেক স্ট্রাইকার আলফাজের মতে, বাংলাদেশের শিরোপা জেতার চান্স কতটুকু তা তো বলতে পারবেন কোচ। তিনি এখনো সাফে দলের টার্গেটের কথা জানাননি। সাফের আগে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান কাপে খুবই বাজে খেলেছিলেন হামজা চৌধুরী-জামাল ভূঁইয়ারা। তিন ম্যাচে ১৩ গোল হজম। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ২-৯ গোলে হার। ১৯৯৯ সালের সাফ গেমস ফুটবলের ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে জয় সূচক গোল করা বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়কের এ নিয়ে বক্তব্য, আসিয়ান কাপে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে যায়নি। ওই রেজাল্ট কিন্তু কোচ টমাস ডুলির জন্য দল সম্পর্কে একটি শিক্ষা হয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন দলের দুর্বলতা কোথায়। কী করতে হবে সাফে ভালো করার জন্য। এরপর ২০০৩ সালের বাংলাদেশ দলের সাথে বর্তমান দলের তুলনা করতে গিয়ে তিনি জানান, এখন হামজার মতো ফুটবলার জাতীয় দলে খেলছেন। আমাদের সময়তো এমন খেলোয়াড় ছিল না। তবে আমাদের সেই দলে ছিল চারজন স্ট্রাইকার। অথচ এখনকার বাংলাদেশ দলেতো কোনো স্ট্রাইকারই নেই। না দেশী, না বিদেশী। 
২০০৩ সাফে চ্যাম্পিয়ন জর্জ কোটানের দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন প্লে-মেকার মিডফিল্ডার আরমান মিয়া। আরমানের মতে, এবারের সাফে আমি বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ভালো সম্ভাবনাই দেখছি। একে তো এবারের দলটি বেশ ভালো। তার ওপর নিজ মাঠে, নিজস্ব দর্শক সবই তো আমাদের ফেবারে। আসিয়ান কাপে ব্যর্থতা সম্পর্কে তার বক্তব্য, আসিয়ান কাপের সাথে তো সাফের তুলনা করলে হবে না।  আসিয়ান কাপ আর সাফের মানত এক নয়। আসিয়ান কাপের মতো সাফেতো সেই মানের টিম খেলে না। তা ছাড়া আমরা পর্যান্ত প্রস্তুতি নিয়ে যাইনি ইন্দোনেশিয়ায়। সাফের প্রতিপক্ষগুলোর সাথে তুলনা প্রসঙ্গে আরমান বলেন, কে কেমন দল, কোন দলে প্রবাসী খেলোয়াড় আছে এই নিয়ে তো চিন্তা করে লাভ নেই। শিরোপা জিততে হলে খেলেই জিততে হবে। মাঠে পারফর করতে হবে। আমি অবশ্যই আশাবাদী ট্রফি জয়ের ব্যাপারে। 
২০০৩ সাফের স্ট্রাইকার সাইফুর রহমান মনি এখন বাফুফে সদস্য। বয়সভিত্তিক জাতীয় দলের কোচও ছিলেন। তার মতে, একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে আমি অবশ্যই চাইব সাফে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হোক। তবে চাইলেই তো আর হবে না। সব কিছু মিলিয়েই ট্রফিতে হাত ছোঁয়ানো যায়। আমি বলবো সাফে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন। তিনি উদহারন টেনে বলেন, ‘২০০৩ সালে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলাম। তখন ফিফা উইন্ডোর বিষয় ছিল না। আমরা লম্বা সময় ধরেই কোচ জর্জ কোটানের অধীনে অনুশীলন করেছিলাম। এখন তো ফিফা উইন্ডোর জন্য সব ফুটবলারকে এক সাথে বেশী সময়ের জন্য পাওয়া যায় না। কোচও নতুন এসেছেন।’ তার অধীনে আসিয়ান কাপে ব্যর্থতা সম্পর্কে বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে কোচকে দোষও দিতে পারবেন না। কোচও নতুন। তাকে সময় দিতে হবে। এক টুর্নামেন্ট দিয়ে তো কোচকে যাচাই করা যাবে না।’ মনি আরো বলেন, আমাদের যেমন হামজা-ফারহানের মতো খেলোয়াড় আছে। অন্যরাও তো বসে নেই। শ্রীলঙ্কা তো বলতে গেলে সব ইউরোপের খেলা ফুটবলারদের নিয়ে খেলবে। তাই আমার মতে, বাংলাদেশের জন্য সাফ শিরোপা পুনরুদ্ধারটা বেশ কঠিনই।

Advertisement