
বিশেষ সংবাদদাতা
ইয়েমেনের হাউছিদের ছোড়া একের পর এক মিসাইল হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও দাম্মাম। এ দু’টি শহরের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দফায় দফায় হামলার ঘটনার পর থেকেই সারা বিশ্বের সাথে আকাশপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। হামলায় বিমানবন্দরে অবস্থানরত অনেকে হতাহত হয়েছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশী দু’জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হওয়ার সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে। এরপর থেকেই বিমানবন্দর দু’টির স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে রয়েছে। এ নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যেসব দেশী বিদেশী ফ্লাইট রিয়াদ এবং দাম্মাম রুটে ফ্লাইট অপারেশন করতো সেগুলো নিরাপত্তা না থাকার কারণ দেখিয়ে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যা গতকাল পর্যন্ত সন্ধ্যা পর্যন্ত বলবৎ ছিল। হামলা শুরুর প্রথম দিন থেকেই অসংখ্য প্রবাসী বাংলাদেশী দেশটিতে কর্মসংস্থান হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়; অনেকের সময় কাটছে অজানা আতঙ্কের মধ্যেও।
এমন অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিমানের সৌদিগামী ফ্লাইটের হালনাগাদ তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যর ফ্লাইট পরিচালনার সময়সূচিতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ঢাকা-দাম্মাম-ঢাকা রুটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত প্রতিদিন দিনের বেলায় এ রুটে ফ্লাইট পরিচালিত হবে। ঢাকা-রিয়াদ-ঢাকা রুটের ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যাত্রীগণকে নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস সেন্টারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এ দিকে গতকাল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র কাওছার মাহমুদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবগামী রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের মোট ১৭১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এসব ফ্লাইটের ২৩ হাজার ৭৭ জন যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
গতকাল দাম্মাম থেকে জনৈক বাংলাদেশী শ্রমিক জানিয়েছেন, এ মুহূর্তে দাম্মামের পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। তবে বিমানবন্দর চালু হওয়ার কোনো সংবাদ তারা পাননি। অপর দিকে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকা থেকে জনৈক বাংলাদেশীর উদ্ধৃতি দিয়ে নজরুল ইসলাম নামের তার এক স্বজন নয়া দিগন্তকে জানান, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পরিস্থিতি এখনো থমথমে। চার দিনের একটি সতর্কবার্তা আসার কথা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এ দেশটির আর্মি এবং পুলিশ সদস্যরা করণীয় নিয়ে দফায় দফায় মিটিং করছেন। এর আগে প্রবাসী বাংলাদেশীরা নয়া দিগন্তকে জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটিতে থাকা বাংলাদেশীদের অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। অনেকে দালালের খপ্পরে পড়ে এমনিতেই সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন। এখন যুদ্ধের কারণে তাদের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে হু হু করে। তারা এ অবস্থায় কী করবেন তা নিয়ে তাদের দিন কাটছে নানা শঙ্কায়। ইতোমধ্যে অনেকেই তাদের কষ্টের কথা জানিয়ে পরিবারের কাছ থেকে নিচ্ছেন পরামর্শ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








