ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল থাইল্যান্ড

দ্য নিউ আরব 
থাইল্যান্ডে ইসরাইলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া প্রতিবাদ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত শনিবার ফুকেতে দু’টি পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। থাইল্যান্ডে ইহুদি ধর্মীয় ও সামাজিক সেবা সংগঠন হাবাদ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা এবং ইসরাইলি পর্যটকদের ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপের দাবিই ছিল এই প্রতিবাদের মূল বিষয়।
এই জনসভার মূল বক্তা ছিলেন থাইল্যান্ডের প্রবীণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট ও সাবেক ইয়েলো শার্টস আন্দোলনের নেতা সন্ধি লিমথংকুল। তিনি এককালীন ভিসায় থাইল্যান্ডে ইসরাইলি পর্যটকদের প্রবেশের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৫ দিনে সীমিত করার দাবি জানান। 
সন্ধির অভিযোগ, ইসরাইলিরা স্থানীয় ব্যবসার ক্ষতি করছে, এমন সব ব্যবসা পরিচালনা করছে যা কেবল অন্য ইসরাইলিদের সেবা দেয় এবং এর ফলে ইউরোপীয় পর্যটকরা থাইল্যান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। তিনি সরকারকেও ইসরাইলিদের প্রতি নতজানু হওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন এবং ইসরাইলের সাথে সরকারের গোপন চুক্তির ইঙ্গিত দেন। 
একই দিন দ্বীপে আয়োজিত আরেকটি বিক্ষোভের নেতা সাইচোল নুচোট থাই সরকারের কাছে নাগরিকত্ব পাওয়া ইসরাইলিদের নাগরিকত্ব বাতিল এবং দেশটির সকল চাবাদ প্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান। স্থানীয় প্রতিবাদী দলগুলোর অভিযোগ, ইসরাইলি নাগরিকরা বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করছে, স্থানীয় সংস্কৃতিকে অসম্মান করছে এবং বিদেশী মালিকানার বিধিনিষেধ এড়াতে থাই নাম ব্যবহার করছে। থাইল্যান্ডে গঠিত ‘চাবাদ হাউজ’ নামে পরিচালিত কেন্দ্রগুলোর কর্মকাণ্ড সম্প্রতি নজরদারির আওতায় এসেছে। গত জুলাইয়ে এক তদন্ত চলাকালীন এক ইসরাইলি পর্যটক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্ক করে বলেন, ‘আপনারা কি জানেন না এটি ইসরাইলি ভূখণ্ড?’  
ওই ঘটনার পর থাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্তের পরিধি বাড়ায় এবং সেপ্টেম্বরে দেশজুড়ে অন্তত ৯টি চাবাদ হাউজের লাইসেন্স ও সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে তদন্ত পরিচালনা করে। গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল দেশটির চাবাদ প্রধান রব্বাই ইউসেফ চাইম কান্টোরের থাই নাগরিকত্ব বাতিল করেন। ২০১৩ সালে থাই নাগরিকত্ব পাওয়ার পরও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবহার করে ১৬ বার অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেছিলেন বলে তদন্তে বেরিয়ে আসে। 
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি ইসরাইলিদের জন্য একটি জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
 যেখানে সেনাসেবা শেষ করে অনেকে ঘুরতে যান। তবে ২০২৩ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলবিরোধী আন্দোলন গাজা যুদ্ধের কেন্দ্রিক হলেও থাইল্যান্ডের বিক্ষোভগুলো স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলো দখলে নেয়ার অভিযোগ ও স্থানীয় নানা সমস্যার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

Advertisement