ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার মার্কিন অভিযোগ হাস্যকর : উত্তর কোরিয়া

বিবিসি 
ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। অভিযোগগুলো ‘হাস্যকর কথাবার্তা’ বলেও অভিহিত করেছে দেশটি। গতকাল মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন এবং দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করতে যুক্তরাষ্ট্রের এটি আরেকটি ‘অশুভ চেষ্টা’। 
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই, সিক্রেট সার্ভিস এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা দাবি করছেন, বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলার চুরির পেছনে রয়েছে উত্তর কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ ওঠা সর্বশেষ সাইবার হামলা এটি। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা অর্থনীতির অর্থায়নে দেশটি সাইবার অপরাধের ওপর নির্ভর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও এফবিআইয়ের দাবি, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটার’ এই হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে।
এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি অ্যাকাউন্টের লেনদেন বন্ধ করতে শিল্প খাতের অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই। কিম ইয়ো জং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আবারো গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়ার সাথে এর যোগসূত্র স্থাপনের গতানুগতিক উসকানি দিয়েছে।’ 
তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সব ধরনের সাইবার অপরাধ যেন আমাদেরই কাজ, এমন ধারণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জনমতকে বিভ্রান্ত করছে। এটি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর রাজনৈতিক উসকানি।’ তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হয়েছে। দেশটি অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।  
ট্রেডারট্রেইটার ইউনিটটি ‘লাজারাস গ্রুপ’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্রতিষ্ঠান বাইবিটে ১৫০ কোটি ডলারের হ্যাকিংয়ের ঘটনায় এই গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়েছিল। এস রাজরতœম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকেরা বলেছেন, উত্তর কোরিয়া পরিকল্পিতভাবে নিজেদের সাইবার কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

Advertisement