
উত্তম গোলদার মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
ফের তীব্র আকার ধারণ করেছে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীর ভাঙন। গত কয়েক দিনে উপজেলার মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের পিঁপড়াখালী গ্রামে হঠাৎ করেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ছয়টি বসতঘর। প্রতিদিন নদীর ভাঙনে ওই এলাকা থেকে ফসলী জমিসহ ঘরবাড়ি গ্রাস করে নিচ্ছে পায়রা নদী। উপজেলার রামপুর, ভিকাখালী, পিঁপড়াখালী, হাজিখালী ও কাকড়াবুনিয়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়িঘর, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের গতি এতই তীব্র যে মানুষ তাদের বসতঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নেয়ারও সুযোগ পাচ্ছে না। হঠাৎ নদীগর্ভে বসতভিটা হারানো নিঃস্ব মানুষগুলোর মধ্যে রয়েছেন- রুস্তুম সিকদার, কুদ্দুস, সহিদ হাওলাদার, বজলু হাওলাদার, আনোয়ার সিকদার ও মহসিন সিকদার। এর আগে গত কয়েক মাসেও পিঁপড়াখালী গ্রাম থেকে প্রায় ১১টি পরিবার পায়রা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছেন।
অব্যাহত ভাঙনের কারণে মানচিত্র থেকে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে মির্জাগঞ্জ উপজেলা। সরেজমিন দেখা যায় ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে আধাপাকা ঘরগুলো নিজেরা ভেঙে অন্যত্রে সরিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে পিঁপড়াখালীর উত্তর এলাকায় কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও শীতের মৌসুমে দক্ষিণ দিক থেকে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নদীভাঙনের কারণে জীবনের তাগিদে তাদের বারবার বসতভিটা বদলাতে হয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা না হলে মানচিত্র থেকে পিঁপড়াখালী গ্রামটি পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বর্তমানে ভাঙনের শিকার বহু মানুষ অন্যত্র গিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত বছরও নদীভাঙনের মুখে পড়ে জাকির প্যাদার ঘরসহ চার-পাঁচটি ঘর সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। নদীরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের সরাসরি মুখে রয়েছে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া লঞ্চঘাট এলাকাসহ ব্যস্ততম বাজারটি। পায়রা নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে মেনিয়াবাদ ও পিঁপড়াখালী গ্রাম দু’টি আজ অস্তিত্ব সঙ্কটের মুখে। ইতোমধ্যে গ্রাম দু’টির কয়েক হাজার একর ফসলী জমি, অসংখ্য বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান নদীতে তলিয়ে গেছে।
পিঁপড়াখালী গ্রামের বাসিন্দা ও সহকারী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, এই এলাকায় পায়রার ভাঙন যেন একটি নিত্যদিনের ঘটনা। পানি উন্নয়ন বোর্ড যতবারই বাঁধ নির্মাণ করে, কিছুদিন পর তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিশেষ করে পিঁপড়াখালী ও সুন্দ্রাকলিকাপুর এলাকায় ভাঙনের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। ভাঙনের করাল গ্রাসে একসময়ের জমজমাট পিঁপড়াখালী বাজার আজ প্রায় বিলুপ্ত। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পিঁপড়াখালী পরিবার’-এর কর্মকর্তা সুলতান আহেম্মদ জানান, নদীর ভাঙনে এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন ইতোমধ্যে নদীতে চলে গেছে। কিন্তু ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমরান হোসেন জানান, পিঁপড়াখালী এলাকায় ভাঙন রোধে বর্তমানে সার্ভে বা জরিপ কাজ শেষ পর্যায়ে। কাজ সম্পন্ন হলে পায়রা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে ব্লক ফেলার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। এ ছাড়া ভাঙন রোধে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সার্বিক বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বরাদ্দ বা বাজেট পাওয়া মাত্রই বাঁধ ভাঙন রোধে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








