
মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)
দীর্ঘ ৩৯ বছরেও সংস্কার করা হয়নি ভোলার লালমোহন সাবরেজিস্ট্রার অফিস ভবন। জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে বিমের রড। বৃষ্টির পানি চুইয়ে নষ্ট হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র। এরই মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দলিল নিবন্ধন করতে আসা সাধারণ মানুষকেও থাকতে হচ্ছে দুর্ঘটনার আতঙ্কে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভবনটি নির্মাণের পর ১৯৮৭ সালের ১৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগের তৎকালীন কমিশনার নুরুল ইসলাম এটি উদ্বোধন করেন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির বড় ধরনের সংস্কার বা উন্নয়নকাজ হয়নি। বর্তমানে এর বিভিন্ন অংশ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় রেকর্ড রুমে সংরক্ষিত পুরনো বালাম বইসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অফিসের নকলনবিশ সামিয়া জানান, তিনি গত ১০ বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। সম্প্রতি অফিস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে তার মাথার উপর পড়ে। আহত হন তিনি। দলিল লেখক আব্দুল আলী পাটোয়ারী বলেন, বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে সরাসরি সরকারি বালাম বই ও দলিলের ওপর পানি পড়ে। এতে অনেকসময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়।
দলিল নিবন্ধন করতে আসা বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজন জানান, যেকোনো সময় ছাদের অংশ খসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ আশঙ্কা সত্ত্বেও জরুরি প্রয়োজনে তাদের এ ভবনে আসতে হচ্ছে।
দলিল লেখক সমিতির নেতা আব্দুর রব পাটোয়ারী ও আলমগীর পাটোয়ারী বলেন, এ অফিস থেকে প্রতি বছর সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অথচ গুরুত্বপূর্ণ দফতরটির অবকাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। তারা অবিলম্বে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অফিসের সহকারী মো: সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভবনটির দুরবস্থা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চিঠি পাঠানো হয়েছে; কিন্তু এখনো কোনো প্রতিকার মেলেনি। বিষয়টি স্পিকারকেও অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত পুরনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সেখানে আধুনিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








