ফ্রান্সে ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভ ‘ঝুঁকিপূর্ণ’, কঠোর প্রস্তুতির নির্দেশ ম্যাক্রোঁর

মাহবুব হোসাইন ফ্রান্স

Advertisement

ফ্রান্সে চলমান সামাজিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আগামী ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মার্সেই সফরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বিক্ষোভের রুট শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ বা হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের সমন্বয়কারীরা আগামী ৩১ অক্টোবর, শনিবার নতুন করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন। তাদের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন নগর ভবনের সামনে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করার। সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সংগঠিতভাবে মাঠে থাকবে।
আসন্ন আন্দোলনের ‘তৃতীয় পর্ব’ বা ‘অ্যাক্ট থ্রি’ প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করে জানান, বিক্ষোভের ঘোষিত রুটগুলো যেন শহরের কেন্দ্রস্থলের বাইরে রাখা হয়। সাধারণত আন্দোলনকারীরা সংশ্লিষ্ট নগর ভবনে মিছিলের রুটের প্রস্তাব জমা দেয়ার পর আঞ্চলিক প্রশাসন বা প্রিফেকচার তা অনুমোদন বা পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়।
এর আগে গত শনিবার ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভে প্রায় চার লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, এতে প্রায় আট লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। বিগত দিনের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, প্রশাসনের সংগঠিত পদক্ষেপের ফলেই সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে বিক্ষোভে প্রায় ৮০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সহিংসতা ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও কারিগরদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বীমা সংস্থাগুলোর সাথে যোগাযোগ করে দ্রুত তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ছাড়া সামাজিক আন্দোলনের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে সরকারকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর সাথে শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন।
আগামী ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা রক্ষা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং আন্দোলনের পেছনে থাকা দীর্ঘমেয়াদি অসন্তোষের কারণগুলো দূর করাই এখন ফরাসি সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনের নেয়া প্রস্তুতি এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপগুলো পরিস্থিতি কতটা শান্ত রাখতে পারে, তা এখন দেখার বিষয়।