
চট্টগ্রাম ব্যুরো
পদত্যাগ করেননি, সুস্থ হয়ে আবারো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ফিরবেন বলে জানিয়েছেন ভিসি অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। প্রায় ৩০ ঘণ্টা প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। গতকাল বুধবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্কটের সমাধান হয়নি। সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, পদত্যাগ কিংবা ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে তিনি কোনো ঘোষণা দেননি। অসুস্থতার কারণে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সুস্থ হলে আবারো বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
ভিসির দাবি, তাকে নিয়ে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনে পদত্যাগ ও ক্যাম্পাসে না ফেরার যে কথা বলা হয়েছে, তা সঠিক নয়। তার বক্তব্য না নিয়ে এমন সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
গত ১২ অক্টোবর সকালে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান নবনিযুক্ত ভিসি শেখ শরীফুল আলম। প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে তিনি নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এর আগে থেকেই সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিলে ভিসিসহ ভেতরে থাকা ১১ জন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে ভবনটির বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়।
অবরুদ্ধ অবস্থায় ভিসিসহ ভেতরে থাকা কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর আগে সোমবার রাতে দুই সাবেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে তাদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ভিসিকেও হাসপাতালে নেয়া হয়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে শিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, ভিসি ভবনের তালা ভেঙে প্রবেশের ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। ভবনের ভেতরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সাবেক ভিসি অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে তারা অটল রয়েছেন। কর্মবিরতি ও সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।
অন্য দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরাও তাদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের
(কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সাবেক ভিসিকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








