ড. ইউনূসকে হেনস্তা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী : ড. খালিদ

 নিজস্ব প্রতিবেদক

Advertisement

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
গতকাল বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যক্তিত্ব ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ। তার মতো একজন ব্যক্তিকে হেনস্তা করা, তাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো এবং শারীরিকভাবে হুমকি দেয়া আন্তর্জাতিক রীতিনীতি, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করাও নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সমালোচনার নামে ব্যক্তিগত আক্রমণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অপপ্রচার কিংবা শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের চর্চা হতে হবে দায়িত্বশীলতা, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।
সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার একটি সঙ্কটময় সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংস্কারের দায়িত্ব পালন করেছে। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন অবশ্যই হতে পারে। তবে সেই মূল্যায়ন হওয়া উচিত যুক্তি, তথ্য ও গঠনমূলক সমালোচনার ভিত্তিতে। ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করা কিংবা তার মর্যাদা ক্ষুণœ করার চেষ্টা কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের পরিচায়ক নয়।
বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা রক্ষার স্বার্থেও এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধ ও মতপার্থক্য মোকাবেলায় সহনশীলতা, সংলাপ এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা জরুরি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। একইসাথে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।