রংপুরে নিরাময় কেন্দ্র স্থানান্তর নিয়ে মুখোমুখি দুই মন্ত্রী

রংপুর ব্যুরো

Advertisement

রংপুরে নির্মাণ হওয়ার কথা ২০০ শয্যার বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র। কিন্তু হুট করেই সেটি লালমনিরহাটে নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থান পরিবর্তনের পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু চিঠি পাঠালে, তার সরাসরি বিরোধিতা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাল্টা আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন রংপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ঘটনার শুরু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের এক সিদ্ধান্ত দিয়ে। দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ার প্রকল্পের অংশ হিসেবে রংপুরের মন্থনা মৌজায় ১০ একর জমি নেয়ার প্রস্তাব তৈরি হয়। কিন্তু জমিটি তিন ফসলি হওয়ায় স্থানীয় মালিকদের আপত্তিতে অধিগ্রহণ কিছুটা আটকে যায়। এই সুযোগেই ত্রাণমন্ত্রী প্রকল্পটি তার নিজ জেলা লালমনিরহাটের বড়বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সুপারিশ করে বসেন।
বিষয়টি নজরে আসতেই রংপুর জেলা মন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ৬ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে দেয়া এক চিঠিতে জানান, পুরো রংপুর বিভাগের আটটি জেলার মানুষের জন্য রংপুর শহরই সবচেয়ে সহজগম্য। সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে এই কেন্দ্র নিয়ে গেলে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় বা নীলফামারীর রোগীদের যাতায়াতেই নাভিশ্বাস উঠে যাবে, পকেটও খালি হবে। জমি নিয়ে সমস্যা থাকলে রংপুর শহরের অন্য কোনো খাস জমিতে নিরাময় কেন্দ্রটি গড়ার পক্ষে যুক্তি দেন তিনি।
একই সুর রংপুর অঞ্চলের নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতাদেরও। ‘সুজন’ ও স্থানীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধিরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিভাগীয় সদরে হওয়ায় এখানে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও এখানকার চিকিৎসকদের জরুরি সাপোর্ট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা একপ্রান্তের লালমনিরহাটে পাওয়া দুষ্কর।
রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালসহ ক্ষুব্ধ নগরবাসী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন- রাজনৈতিক প্রভাবে জনস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যদি সিদ্ধান্ত বদলানো হয়, তবে রাজপথে নামা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।