
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও নরসিংদীর মনোহরদীতে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিলেটের গোয়াইনঘাটে ছিনতাইকরীদের হাতে নিহত হয়েছেন এক যুবদল নেতা।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে নিখোঁজের ১৩ ঘণ্টা পর হালিমা আক্তার নামের তিন বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রতিবেশীর ঘরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। শনিবার রাত ৮টার দিকে দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিচিন্তা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু হালিমা একই এলাকার নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির কন্যাসন্তান।
ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে গৃহকর্তা আবদুল আউয়াল, তার স্ত্রী আসমা বেগম ও ছেলে রবিউল হককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে হালিমা নিখোঁজ হয়। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে স্থানীয় মসজিদের মাইকেও প্রচার চালান। পরে বিকেল ৫টার দিকে পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে দাঁতমারা পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী আবদুল আউয়ালের ঘরের আলনার জুতার বক্সের ওপর কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা অবস্থায় শিশুটির লাশ পাওয়া যায়।
নিহত শিশুর বাবা নাছির উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার কলিজার টুকরোকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে ঘরের আলনায় লুকিয়ে রেখেছিল। আমার মেয়ের মাথা ও সারা শরীরে নির্যাতনের কালো দাগ রয়েছে। আমি আমার নিষ্পাপ মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, নিহতের বাবা বাদি হয়ে আটক তিনজনকে আসামি করে ভূজপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ পাওয়ায় আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
মনোহরদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, সতিনকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের আড়াই বছরের মেয়েকে খুন করেছে মা। ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলায়। ঘটনার পরে মামলার তদন্তে নিহত তানজিমার মা রহিমা ওরফে টুনিকে(২৩) গ্রেফতার করার পরে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নিহত তানজিমা মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের নাজমুলের মেয়ে।
গ্রেফতারকৃত রহিমা একই উপজেলার চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের নুরুল আমিনের মেয়ে এবং খিদিরপুর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের নাজমুলের দ্বিতীয় স্ত্রী।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শিশু তানজিমার লাশ নয়াপাড়া গ্রামের বাবার বাড়ির তালাবদ্ধ ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পরে আসামি তার স্বীকারোক্তি বলেন, ঘটনার প্রায় ১০-১৫ দিন যাবৎ রহিমা তার স্বামী নাজমুল এবং সতীন হনুফার সাথে বসবাস করে আসছিল। এ সময় তার মেয়ে তানজিমা তার নানীর বাড়ি চরমান্দালিয়া ছিল। ঘটনার দিন রাতে রহিমার সাথে তার সতীন হনুফার সাথে ঝগড়া বিবাদ হয়। পরে রহিমা তার মেয়ে তানজিমাকে নানীর বাড়ি থেকে নিয়ে আসে। সতীন হনুফাকে ফাঁসানোর জন্য বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে স্থানীয় পাড়াতলা গ্রামের পল্টন এর পুকুরে তানজিমাকে পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার পরে তানজিমার লাশ তার স্বামীর বসত ঘরের চৌকিতে রেখে বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজনের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই দিন রাতে শিশু তানজিমার লাশ উদ্ধার করে।
এরপরে এ ঘটনায় শিশুর দাদী ফিরোজা বেগম বাদি হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী এসআই ওবায়দুর রহমান জানান, মামলার বিবাদি রহিমা ওরফে টুনিকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তানজিমাকে পানতে ঢুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করে।
গোয়াইনঘাট (সিলেট) সংবাদদাতা জানান, সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা রুস্তমপুর ইউনিয়নের গোরাগ্রাম মসজিদ সংলগ্ন রাস্তায় গতকাল ভোরে যুবদল নেতা বদরুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বদরুল আলমের সাথে থাকা সাদেক হোসেন জানান তারা দুইজন মনরতল বাজার থেকে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার পথে গোরাগ্রাম নামক স্থানে ডাকাতরা হামলা করে এ সময় বদরুল বাধা দিলে তারা দা, চাকু, ছুলফিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে সাদেকে কোনোমতে প্রাণে বাঁচলেও ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরুল আলম। স্থানীয়রা তার লাশ সিলেট ওসমানী মেডিক্যালে প্রেরণ করেন।
হামলা কারীরা হলেন স্থানীয় গোরাগ্রাম গ্রামের মুহিবুর রহমানের ছেলে শাহীনুর রহমান (২৯), মামুন আহমদ (৩৪), আমিনুর রশিদ (৩২), তুহিন আহমদ (২৫), সুহিন আহমদ (২৩) ও উপরগ্রাম গ্রামের আব্দুস শহীদ ওরফে শহীদ দার পুত্র নোমান আহমদ।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক মোড়লের নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেছে।
যশোর অফিস জানায়, যশোর সদর উপজেলার চান্দুটিয়া গ্রামে ইঞ্জিন চালিত নসিমন চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিল্লাল নামে আরো একজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। এ ছাড়া মনিরুজ্জামান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার ভোরে চান্দুটিয়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মিজানুর রহমান ঝিকরগাছা উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের খায়রুলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাতে তিন ব্যক্তি গ্রামে ঢোকে। এরপর নসিমন চুরি করে পালানোর সময় স্থানীয়রা ওই তিনজনকে ধাওয়া করেন। এ সময় তারা চান্দুটিয়া সুইস খালের দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। ধাওয়া দিয়ে মিজানুর রহমানকে ধরে গণপিটুনি দেয়া হয়। এ ছাড়া মনিরুজ্জামান ও বিল্লাল নামে দুইজন পানিতে পড়ে যান। গ্রামবাসী মিজানুরকে আটক করলেও নিখোঁজ রয়েছেন বিল্লাল।
যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি কবির হোসেন জানান, চুরিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিহত মিজানুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া মনিরুজ্জামানকে আটক দেখানো পর তাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








