
বিশেষ সংবাদদাতা
রূপপুরের বিদ্যুৎ নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি, যা ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ নামে পরিচিত। বায়রার চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর পর বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে আরো দু’টি অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাল্বে জটিলতা দেখা দেয়ায় এতদিন অনুমোদন আটকে ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ কমানোর ওই বাল্বের সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসে। তাদের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় মেরামত ও পরীক্ষা শেষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি সফলভাবে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এরপরই চুল্লি চালুর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমোদন মেলে।
অনুমোদনের পর প্রথমে অত্যন্ত কম শক্তিতে চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এ সময় চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এই পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষ করতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। সবকিছু সন্তোষজনক থাকলে ধাপে ধাপে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে। একই সাথে টারবাইন চালুর প্রস্তুতিও নেয়া হবে। পরবর্তী পর্যায়ে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এজন্য বায়রার কাছ থেকে আরো একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে। প্রথম ইউনিটে শুরুতে মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেয়া হবে। প্রতিটি ধাপে কেন্দ্রের যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং গ্রিড সংযোগের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। তবে গ্রিডে বিদ্যুৎ দেয়ার পরই কেন্দ্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় যাবে না। আরা প্রায় ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলকভাবে কেন্দ্র পরিচালনা করা হতে পারে। এ সময় বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা চালানো হবে। সব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হওয়ার পর প্রথম ইউনিট পূর্ণমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে। রূপপুরের প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে নতুন একটি উৎস। পাশাপাশি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে স্থান পাবে। এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সক্ষমতারও নতুন অধ্যায় শুরু হবে। দীর্ঘদিনের নির্মাণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তা যাচাই শেষে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদনকে তাই রূপপুর প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








