
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরেই ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন দিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার রাত ১০টা নাগাদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মমতা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ককরোচ জনতা পার্টিকে পুরো সমর্থন দেবো। সব তরুণ ছাত্রদেরও সর্মথন জানাব।’
এ দিকে বিজেপি মুখপাত্র প্রণয় রায় মমতার এ বক্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘ওকে কে সমর্থন করেন তার ঠিক নেই, উনি আবার অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন।’ একই সাথে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপি দলটির ভাষায় বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে। একই সাথে ভারতীয় জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ গতকাল বৃহস্পতিবার ককরোচ পার্টিতে যোগ দিয়েছেন। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে আয়োজিত পিপলস ট্রাইব্যুনালে ধ্রুব রাঠি বলেন, এটিই তার প্রথম আন্দোলন। তিনি বলেন, বুধবার যখন ভারতে ফিরলাম, দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে যে ধ্রুব রাঠি সরকার পরিবর্তন করতে আসছে। নরেন্দ্র মোদি হয়তো ভাবছেন আমার সমস্যা কেবল তাকে নিয়ে; কিন্তু সত্যি হলো পুরো ভারতেই তাকে নিয়ে সমস্যা রয়েছে। তবে ধ্রুব রাঠির ভারতে ফিরে এসে এই আন্দোলনে যোগ দেয়ার ঘটনায় বিরোধী দল ও বিজেপি সমালোচনা করেছে।
দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রথম দিনের বৈঠক এবং তার পরবর্তী দিনের সংবাদ সম্মেলন থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নতুন এসআইআর নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে মমতা ঘোষণা দেন, জ্ঞানেশ ইস্যুতে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনকে তার দল পূর্ণ সমর্থন করবে। বিমানবন্দরে তখন শত শত তৃণমূল কর্মী-সমর্থক তৃণমূল নেত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রদর্শন করেন এবং প্রাঙ্গণজুড়ে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিও ওঠে।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুক্রবার ভারতজুড়ে বৃহৎ আন্দোলনে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি। এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাদের পাশে রয়েছে তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত এই আন্দোলনের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে। এর আগে নিটের প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের সময়েও একইভাবে দিল্লির যন্তর-মন্তর উত্তাল হয়ে উঠেছিল এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ দেখা যায়, যার জেরে পরবর্তীতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এবার একই পথ ধরে ভোটচুরির অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে ‘ককরোচ’।
এ দিকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিওফুটেজ দেখিয়ে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং কংগ্রেস কর্মীরা যেভাবে পুলিশের সাথে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন, তাতে দলটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়েছে। এক ভিডিওবার্তায় প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, ‘কংগ্রেসের কৌশল হলো নেপাল ও বাংলাদেশের মতো ভারতেও অরাজক পরিস্থিতির বিস্তার ঘটানো।’
এ দিকে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আয়োজিত ‘পিপলস ট্রাইব্যুনালে’ অংশ নেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে ও ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা ও ভোট চুরির’ অভিযোগ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেস। শুক্রবার এ বিষয়ে শুনানি করতে রাজি হয়েছেন আদালত।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বুধবার মধ্য দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রসহ কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে অন্তত দু’টি নতুন মামলা করা হয়েছে।
কর্নাটকের ভোটার তালিকা থেকে অন্যায়ভাবে নাম বাদ পড়েছেন বলে দাবি করা ভোটাররা গতকাল বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরের ফ্রিডম পার্কে একটি গণশুনানিতে অংশ নেন। বিশিষ্ট অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিসহ অনেকেই তাদের এই লড়াইয়ে সমর্থন ও সংহতি জানান। গণশুনানিতে ‘আমাদের ভোট বাঁচান, গণতন্ত্র বাঁচান’ স্লোগান দেন আগতরা। এর পরপরই জুতা প্রদর্শন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। গত ৩ অক্টোবর নতুন দিল্লির যন্তর-মন্তরে একটি প্রতিবাদ চলাকালে দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিন নারী সাংবাদিক। সেই সাংবাদিকদের সাথে সংহতি জানিয়ে এই ‘চপ্পল প্রতিবাদ’ বা জুতা প্রদর্শন কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়।
প্রকাশ রাজ আগেই এক ভিডিওবার্তায় ধ্রুব রাঠিকে এই অনুষ্ঠানের ‘বিশেষ অতিথি’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, ‘স্ক্র্যাপ এসআইআর’ (এসআইআর বাতিল করো) অভিযানের সমর্থনে বেঙ্গালুরে এটিই রাঠির প্রথম সফর হতে যাচ্ছে। পরে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি নিজেই ‘এক্স’-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওর মাধ্যমে তার উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেন। ‘রাজ্যজুড়ে এসআইআরের শিকার হওয়া সাধারণ মানুষ এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন’- নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন প্রকাশ রাজ। একই সাথে তিনি সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রঙ্কা, মুখপাত্র সৌরভ দাসসহ একাধিক যুব সংগঠন ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেন। ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় সাধারণ নাগরিকদের এই সংগ্রামে যোগ দেয়ার আকুল আহ্বান জানান তিনি।
‘সাউথ ম্যাটার্স’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্নাটকে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় ‘অনুপস্থিত’, ‘স্থানান্তরিত’, ‘মৃত’, ‘নকল’ ও ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরির অধীনে মোট এক কোটি আট লাখেরও বেশি নাম নথিভুক্ত হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি থেকে এটি নিশ্চিত নয় যে এদের মধ্যে সবাইকেই ভুলভাবে বাদ দেয়া হয়েছে। এ দিকে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা গত ২৪ সেপ্টেম্বর দাবি করেছিলেন যে, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে পরবর্তী সময়ে দেশের ১৯টি রাজ্যে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল কর্নাটকেই সংখ্যাটি প্রায় এক কোটি ৪৩ লাখ।
চলতি বছরের মে মাসে একটি যুব-পরিচালিত ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন হিসেবে ককরোচ জনতা পার্টি-সিজেপির যাত্রা শুরু হলেও পরে তারা রাজপথে নেমে আসে। গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তাদের প্রতিবাদের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








