ড. মো: মিজানুর রহমান
ড. মো: মিজানুর রহমান। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরো তিন বছর পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করেছে জাতিসঙ্ঘ। এ সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের নভেম্বরে নির্ধারিত উত্তরণ পিছিয়ে গেলেও এটি উন্নয়নের পথে পশ্চাদপসরণ নয়; বরং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় প্রস্তুতি সুসংহত করার সুযোগ। তবে বাড়তি সময় পাওয়া আর তা কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ঘটানো এক বিষয় নয়। 

Advertisement

২০২৯ সালে উত্তরণের পরও যেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম থাকে, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি ধরে রাখতে পারে, সেই প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের আমানতদারি ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়নে মূল লক্ষ্য করতে হবে। 

এই প্রস্তুতির প্রথম কাজ হওয়া উচিত একটি সময়াবদ্ধ ও সমন্বিত অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন। এর কেন্দ্রে থাকতে হবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, রফতানি বহুমুখীকরণ, আমদানি শুল্ক কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। একই সাথে জ্বালানি নিরাপত্তা, বন্দর ও পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে। এসব সংস্কার বিচ্ছিন্নভাবে নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন করতে হবে। 

এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের রফতানি খাত বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন বাজারে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা কমে গেলে তৈরী পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বজায় রাখা কঠিন হবে। এ ক্ষেত্রে জিএসপি প্লাস সুবিধা পাওয়ার প্রস্তুতি, শ্রম অধিকার, পরিবেশগত মান, কর্মপরিবেশ এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার শর্ত পূরণে কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন। পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ঋঞঅ) ও সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ঈঊচঅ) আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। এসব চুক্তির আগে দেশীয় শিল্প, কর্মসংস্থান, ভোক্তা ও রাজস্বের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন এবং সংবেদনশীল শিল্পের জন্য যৌক্তিক সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

রফতানি প্রতিযোগিতা বাড়াতে আমদানি শুল্ক কাঠামোর সংস্কারও গুরুত্বপূর্ণ। কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে উচ্চ শুল্ক ও অতিরিক্ত চার্জ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। তাই শুল্ক যৌক্তিকীকরণ, রফতানিমুখী শিল্পের জন্য কার্যকর ডিউটি ড্রব্যাক এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধা সম্প্রসারণ করতে হবে। তবে শুল্ক কমানোর ফলে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি না করে আয়কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়াতে হবে। একই সাথে তৈরী পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় রফতানি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ওষুধ শিল্পে এলডিসি হিসেবে পাওয়া মেধাস্বত্ব বা ঞজওচঝ-সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা হারানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাশ্রয়ী ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

রফতানি বহুমুখীকরণের পাশাপাশি দেশীয় শিল্পের উৎপাদনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের আধুনিকায়ন, স্বল্পসুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি ও আমদানিনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণ করতে হবে। উদ্যোক্তা উন্নয়নে মেধা, পরিশ্রম ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সুযোগ-সুবিধা কেবল প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে।

শিল্পায়ন ও রফতানি সম্প্রসারণে ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অপরিহার্য। খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ, দুর্বল ব্যাংকের সম্পদমান নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন, ঋণ আদায় বৃদ্ধি এবং অনিয়মের সাথে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণমুক্ত ঋণ বিতরণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, দুর্বল ব্যাংকের পুনর্গঠন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। 

আমানতকারীর অর্থ একটি আমানত ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ব— এই উপলব্ধি ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রয়োজন। একইভাবে পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উৎসে পরিণত করতে মানসম্পন্ন কোম্পানির তালিকাভুক্তি, বন্ড ও সুকুক বাজারের সম্প্রসারণ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ এবং আর্থিক তথ্য প্রকাশের মান উন্নত করতে হবে। বাজার কারসাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 

রাজস্ব সংস্কারও অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত দীর্ঘদিন ধরে নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি পর্যালোচনা এবং কর প্রশাসন অটোমেশনের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় ও অনুৎপাদনশীল ভর্তুকি পর্যালোচনা করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন জরুরি। কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে শিল্পের চাহিদার সাথে যুক্ত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও অপব্যবহার রোধ সরকারের দায়িত্ব।
বৈদেশিক অর্থায়নের ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। এলডিসি উত্তরণের পর স্বল্পসুদে ঋণ ও বিশেষ উন্নয়ন সহযোগিতা কমে যাবে। তাই বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে। বাণিজ্যিক ঋণের আগে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সক্ষমতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়ন জরুরি। ঋণের অর্থ জনগণের দায়ে পরিণত হয় বলে এর ব্যবহারেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। 

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অভিযোজন, দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো এবং ক্ষয়ক্ষতি পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক স্বল্পসুদের অর্থায়ন ও অনুদান সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

তবে এসব অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে প্রয়োজন অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও জবাবদিহির বিকল্প না হয়। বিনিয়োগকারীরা নীতির ধারাবাহিকতা, সম্পত্তির নিরাপত্তা, চুক্তির বাস্তবায়ন এবং বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা দেখতে চান। রাজনৈতিক সঙ্ঘাত, সহিংসতা ও প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে। তাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, সংসদীয় নজরদারি নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় ও গোষ্ঠীগত প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি। সংস্কারের ধারাবাহিকতা রক্ষায় রাজনৈতিক শক্তি, ব্যবসায়ী সংগঠন, শ্রমিক প্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে ন্যূনতম নীতিগত ঐকমত্য প্রয়োজন।
একই সাথে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। অর্থপাচার বন্ধে ব্যাংকিং লেনদেনের স্বচ্ছতা, আর্থিক গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং কর প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দুর্নীতি, আত্মসাতের মত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। 

বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের প্রবাহ বাড়ানোও জরুরি। বৈধ পথে অর্থ পাঠানো সহজ ও সাশ্রয়ী করা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বাজারের বিনিময় হারের ব্যবধান কমাতে হবে। প্রবাসীদের জন্য নিরাপদ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, বিদেশে কর্মী নিয়োগের ব্যয় ও হয়রানি কমানো এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। 

রেমিট্যান্সের একটি অংশ সঞ্চয় ও উৎপাদনশীল বিনিয়োগে যুক্ত করার পরিবেশ তৈরি করা গেলে অর্থনীতির সক্ষমতা বাড়বে। প্রবাসী কর্মীদের শ্রম ও অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অর্থপাচার রোধ ও বৈধ রেমিট্যান্স বৃদ্ধি একই আর্থিক শৃঙ্খলা কাঠামোর অংশ।

প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য, মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের তথ্য-উপাত্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অতীতে প্রশ্ন উঠেছে। তথ্যের সম্ভাব্য অতিরঞ্জনের অভিযোগ সব ক্ষেত্রে প্রমাণিত না হলেও পরিসংখ্যানের পদ্ধতি, তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাগত স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ জরুরি। অর্থনীতির অগ্রগতি মূল্যায়নে স্বাধীন গবেষণা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের সুযোগ থাকতে হবে। 

এসব উদ্যোগ সমন্বয়ের জন্য সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে একটি কার্যকর জাতীয় এলডিসি উত্তরণ প্রস্তুতি পরিষদ গঠন করা যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বেসরকারি খাত, গবেষক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে অর্থনীতির প্রধান খাতগুলোর নির্ভরযোগ্য ভিত্তি-তথ্য তৈরি করে বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। ২০২৮ সালজুড়ে অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ২০২৯ সালের প্রথমার্ধে স্বাধীন মূল্যায়ন করা যেতে পারে। সরকারের মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত জনসমক্ষে প্রকাশ এবং পিছিয়ে থাকা খাতের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে।

অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের কাছে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যস্ফীতি, আয়বৈষম্য, যুব বেকারত্ব এবং অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কমাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির দক্ষতা বাড়াতে হবে। নারী ও তরুণদের উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।

এলডিসি উত্তরণ বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। কিন্তু এই স্বীকৃতিকে টেকসই অর্থনৈতিক সক্ষমতায় রূপান্তর করাই এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অতিরিক্ত তিন বছর সব সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়; তবে সঠিক অগ্রাধিকার, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং সংস্কারের ধারাবাহিকতা থাকলে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। বাড়তি সময় পাওয়া যেন সাময়িক স্বস্তির উপলক্ষ না হয়। এটিকে আত্মসমালোচনা ও সংস্কারের সুযোগ হিসেবে নিতে হবে। 

২০২৯ সালের উত্তরণ যেন কেবল পরিসংখ্যানগত মর্যাদার বিষয় না হয়; বরং প্রতিযোগিতামূলক উৎপাদন, বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, সুশাসন এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের মধ্য দিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সূচনা করাই হতে হবে জাতীয় লক্ষ্য।

লেখক : অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও কলামিস্ট
Mizan12bd@yahoo.com