
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের পুরো পুলিশবাহিনী পালিয়ে যায়। একটি থানা, ফাঁড়ি কিংবা স্টেশন ছিল না, যেখানে তারা পোশাকে অবস্থান করেছে। পাঁচ থেকে ছয় দিন দেশ পুলিশহীন ছিল। সমসাময়িক বিশ্বে এমন ঘটনার দ্বিতীয় নজির নেই। অনুমতি পেলে ক্রসফায়ার হবে, পুলিশপ্রধান আলী হোসেনের এমন বক্তব্যের পর হাসিনা রেজিমের পুলিশ বাহিনীর নির্মম নিষ্ঠুরতার চিত্র আবার মনে পড়ছে। পুলিশ বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে যুদ্ধে পরাস্ত হয়ে পালিয়ে গেছে, এমন বলার সুযোগ নেই। পালিয়ে যাওয়ার মূল কারণ ছিল নিজেদের অপরাধ। তারা নিজেরাই ভয়ে ভীত ছিল।
পালিয়ে যাওয়া এই পুলিশের এক কর্মকর্তা তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘একটা মারি একটা যায়, বাকিডি যায় না।’ হাসিনার পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিবাদী জনতাকে সরাসরি হত্যা করছিল। তাদের আফসোস ছিল, বেশি মানুষ হত্যা করতে না পারার কারণে। যেজন্যেই রাস্তায় প্রতিবাদী মানুষের ঢল বয়ে যাচ্ছিল। মেশিনগান কিংবা যুদ্ধে ব্যবহৃত ভারী কোনো অস্ত্র দিয়ে পাখির মতো রাস্তায় জড়ো হওয়া সব মানুষকে তারা হত্যা করতে চায়। এই ছিল সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলা ঘাতক পুলিশের উচ্চারিত না হওয়া আরজি।
ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি শাখাও অবশিষ্ট ছিল না যারা বেআইনি বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল না। প্রায় সবার হাতে ছিল প্রাণঘাতী অস্ত্র; যে কারণে রাস্তায় শত শত লাশ পড়েছে, বুলেটের আঘাতে চোখ-হাত-পাসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি হয়েছে হাজার হাজার মানুষের। জুলাইয়ে প্রতিদিন হতাহতের সংখ্যা যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়ে কম ছিল না। সম্প্রতি চলা বৈশ্বিক গণ-অন্দোলনগুলোর সাথে তুলনা করলে বাংলাদেশের পুলিশ হাসিনার সময়ে কতটা নরঘাতক হয়েছিল তা আমরা বুঝতে পারব।
ফ্রান্সে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেড় মাস হতে চলেছে। সেখানে এখনো একজন আন্দোলনকারীও পুলিশের গুলিতে নিহত হয়নি। দেশটিতে এই সময় ব্যাপক লুটপাট ভাঙচুর ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটেছে। সেই তুলনায় জুলাইতে আরো বেশি মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। জুলাই আন্দোলনকারীরা লুটপাটের একটি ঘটনাও ঘটায়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রায় এক মাস হলো নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চলছে। সেখানে এ পর্যন্ত একটিও প্রাণহানি ঘটেনি। একই সময় সারাবিশ্বে আরো বেশ কয়েকটি আন্দোলন চলছে, কোথাও পুলিশ প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের দমন করছে এমন খবর নেই। সেটি ঘটেছে শুধু শেখ হাসিনার সময়ে; যে কারণে হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর শুধু পুলিশ নয়, এর সহযোগী প্রত্যেকটি বাহিনীর শীর্ষ পদাধিকারীসহ উপরের কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ আর নিজের অফিসে ফিরে আসেনি। এদের একটি অংশ বিচারের মুখোমুখি হয়েছে, বড় অংশটি দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে।
বর্তমান আইজিপির বক্তব্যটি বিপজ্জনক এ কারণে যে, তিনি যখন ক্রসফায়ারের কথা বলছেন তখন হাসিনা রেজিমের ভয়াবহ পরিণতি ঠাওর করতে পারছেন না। কোন পরিস্থিতিতে একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শতভাগ একটি খুনে বাহিনীতে রূপান্তরিত হলো, সেটি তার মাথা থেকে উধাও হয়ে গেছে। রাস্তায় যারা নিজ দেশের মানুষকে শত্রু গণ্য করে মেরেছে তারা এক দিনে তৈরি হয়নি। এই বর্বর পিশাচ তৈরি করা হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে, ধাপে ধাপে। বিচারবহির্ভূত হত্যার সূত্র ধরে হাসিনা নাগরিকদের বিনাবিচারে আটক রাখার সংস্কৃতিও চালু করেন। ক্ষমতায় এসেই হাসিনা আয়নাঘর, গুপ্ত কারাগার, বন্দিশিবির গড়ে তোলেনি। প্রথমে তারা কিছু সেফ হাউজ তৈরি করেন। সেখানে নির্মম নির্যাতন করার নানা নারকীয় কৌশল আমদানি করা হয়।
যেকোনো অপরাধের সূচনা হয় ছোট পরিসরে। ভাবা হয় এতে কিছু হবে না। ছোট অনিয়ম অন্যায়টা একসময় দানবীয় রূপ ধরে এর উদ্যোক্তাকে গিলে খায়। হাসিনার ক্ষেত্রে যেমনটি ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকার গুম কমিশন সারা দেশে বহু বন্দিশালার সন্ধান পায়। র্যাব ডিজিএফআইসহ সব বিশেষ বাহিনী আলাদা আলাদা গোপন নির্যাতন কেন্দ্র গড়ে তোলে। বিচারবহির্ভূত হত্যা শুরুতে ক্রসফায়ার নামে সংক্ষিপ্ত পরিসরে শুরু হয়। সরকারবিরোধীরা এর নিশানা ছিল। পরে বিরোধিতা যত বেড়েছে এর পরিসরও বেড়েছে। বন্দুকযুদ্ধ, অ্যানকাউন্টারসহ আরো বিচিত্র নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনে এক হাজার ৯২৬ জন বিচারবহির্র্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া গুপ্ত হত্যা, গুমসহ বন্দিশালায় অগণিত মানুষ পৈশাচিক পীড়নের শিকার হয়েছেন। হাসিনার শুরু করা ক্রসফায়ার শেষে তার নিজ দলের লোকদের হত্যায় ব্যবহার হয়। টেকনাফের কাউন্সিলর একরামকে হত্যা করার সময় র্যাব তার পরিবারের সাথে নির্মম রসিকতা করে। ফোনের অপরপ্রান্তে স্ত্রী ও কন্যাকে রেখে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। বিচারবহির্র্ভূত হত্যার হাত থেকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগসহ ক্ষমতাসীন দলটির কোনো অঙ্গ সংগঠন শেষ পর্যন্ত বাদ যায়নি।
আইজিপির বক্তব্যের পর ক্ষমতাসীন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আইজিপির এহেন বক্তব্যকে বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। যুবদলের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফ্যাসিস্ট সময়ে গুম বিচারবহির্ভূত হত্যার দুঃসহ দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার আর বিচারবহির্ভূত হত্যা হতে দেবে না। এ ব্যাপারে সরকার জিরো টলারেন্স বলে জানান তিনি। সরকারের এক উপদেষ্টা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, আইজিপির বিষয়ে অবস্থান প্রধানমন্ত্রী ঠিক করবেন। আইজিপির বক্তব্যে সরকারের ভেতরে জোরালো প্রতিক্রিয়া হয়েছে অনুমান করা যাচ্ছে। এর মূল কারণ তারা নিজেরা হাসিনার দীর্ঘ শাসনে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন।
সমালোচনার মুখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার একটি বিবৃতি দিয়েছে। আইজিপির পক্ষ থেকে সেখানে দাবি করা হয়, ক্রসফায়ার তিনি প্রতীকী অর্থে বলেছেন। মূলত তিনি সেটি বলেছেন মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে, এমন অপরাধীদের দমন করার জন্য। তিনি হয়তো সত্যি এভাবে ভেবেছেন। বাস্তবতা সম্পূর্ণ এর বিপরীত। হাসিনাও অপরাধীদের দমন করতেই বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ ধরেন। এ জন্য তিনি বিভিন্ন সময় জোর সাফাইও গেয়েছেন। ক্রসফায়ারের নামে বিরোধীদের হত্যার যে সংস্কৃতি হাসিনা চালু করেন তা ফ্রাঙ্কেনস্টাইন হয়ে অবশেষে তাকে গিলে খেয়েছে। জুলাই গণবিপ্লবের ভিত্তি রচনা করেছে গুম-খুন বিচারবহির্ভূত হত্যার ভুক্তভোগীরা। লেখার শুরুতে সব পুলিশের একসাথে পালিয়ে যাওয়ার যে কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারও কারণ একটিই। গুম বিচারবহির্র্ভূত হত্যাসহ নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন পুলিশ চালিয়েছে তার পরিণতির ভয়েই তারা পালিয়ে গেছে। বিশেষ করে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার একচেটিয়া যে অধিকার হাসিনা ঢালাও পুলিশকে দিয়েছে, তাতে আক্রান্ত হয়েছে পুরো দেশ। জুলাইতে ছাত্র-জনতার ঐক্যের ভিত্তি ছিল ক্রসফায়ারের সূত্র ধরে সরকারি বাহিনীর দীর্ঘ নিষ্পেষণ। থানা জ্বালিয়ে দেয়া, আক্রমণ করার পেছনে একই কারণ কাজ করেছে। সরকারি বাহিনীর পোশাক ঘৃণার চিহ্ন হয়েছে। রাস্তায় ট্রাফিকও পালিয়ে গিয়েছিল।
আইজিপির বক্তব্য সমর্থনের কোনো সুযোগ নেই। যদিও পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন তার বক্তব্যের সমর্থনে বিবৃতি দিয়ে বসেছে। এ ধরনের বিবৃতি দেয়ার রেওয়াজ হাসিনার সময় চালু হয়। তারা নগ্ন হয়ে ওই পুলিশের গুম-খুনের পক্ষে প্রচারণায় নামত। এই পুরনো সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরে আসা উচিত। নিজের গোত্রের হলেই যেকোনো অবস্থায় তার প্রতি সমর্থন রাখতে হবে, এই মনোভাব ত্যাগ করতে হবে।
দেশে চলমান ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ আছে। সরকার কোনোভাবে তা সামাল দিতে পারছে না। আইজিপির দীর্ঘ বক্তব্যে সেটিও প্রকাশ পেয়েছে। ক্রসফায়ারের বিষয়ে বলতে সে কারণে তিনি উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকতে পারেন। খেয়াল রাখতে হবে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের বিষয়টি। দলটি যখন সরকারের থাকে না তখন রাজপথে সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে বিশেষভাবে দক্ষ। ইতিহাসে বাংলাদেশে যত ধরনের বড় বিপর্যয় হয়েছে এর পেছনে তাদের নাশকতা ও জঙ্গি কার্যক্রম কাজ করেছে। এমনকি তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চড়াও হতে কোনো দ্বিধা করে না। সম্প্রতি গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকায় একই ধরনের উগ্র সন্ত্রাসী কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। পুলিশের ওপর হামলা ও যানবাহন ভাঙচুর করতে তাদের দেখা যাচ্ছে। ককটেল নিক্ষেপ করে ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। নাশকতা সৃষ্টির জন্য নেতাকর্মীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও তারা চালিয়েছে। এ কাজে তারা দেশের আইনশৃঙ্খখলা বাহিনীর মধ্যে থেকে একটি শ্রেণীকে এ কাজে লাগিয়েছে। এদের দমন করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে কঠোর হতে হবে। এ জন্য কোনোভাবে ক্রসফায়ারের প্রয়োজন নেই। দরকার বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত পুলিশ ও তাদের উচ্চ মনোবল।
পুলিশের পক্ষ থেকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম ঠেকানোর কতটুকু প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে সেটি জানা যাচ্ছে না। তবে সরকারের সমালোচনা করলে তাদের দমন করতে পুলিশের উৎসাহী ভূমিকা দেখা যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। সরকার এমন লোকদের বিচারের আওতায় আনতে বেশি উৎসাহী যারা সরকারের সমালোচক। সম্প্রতি পণ্যমূল্যের ঊর্র্ধ্বগতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখানোর কারণে এবং প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে অনেকে আটক ও মামলার শিকার হয়েছেন, রিমান্ডে গেছেন। প্রতিকৃতিতে কালি লাগানোর চেষ্টার কারণেও রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়া হয়েছে।
সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব:) আখতারুজ্জমানের আটক, রিমান্ড ও জামিন নামঞ্জুরের ঘটনাটি সরকারের দমননীতির বার্তা দিচ্ছে। তিনি দেশের প্রধান বিমানবন্দরে অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। নিজে ও তার সতীর্থরা অনিয়মের শিকার হওয়ায় কারণে সেটি করেন। ক্ষোভ প্রকাশে নিজের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। কিন্তু তার প্রতিবাদের ইস্যুটি ছিল যথার্থ। যে কারণে বিমানবন্দরে বিভিন্ন সময় লাগেজ হারিয়ে এবং নানাভাবে হেনস্তার শিকার হওয়া লাখ লাখ মানুষ আখতারুজ্জমানের প্রতিবাদে সমর্থন দিয়েছেন।
ওই ঘটনার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কয়েকজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং কিছু নতুন কর্মকর্তা সেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য। অথচ আখতারুজ্জমানের সাথে করা হয়েছে নির্দয় আচরণ। বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা স্বীকার করে নিয়ে তার ওপর মামলা রিমান্ড এবং জামিন না দেয়া সরকারের নৈতিক অবস্থানকে নড়বড়ে করেছে। এক দিকে অনিয়মের বিপক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছে অন্য দিকে এর প্রতিবাদ করায় জেলের ঘানি টানাচ্ছে। একইভাবে লঘু অপরাধে গুরুদণ্ড দেয়ার বেশ কিছু নজির তৈরি হয়েছে, যেগুলো দেশের দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উত্তরণে বরং নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকৃত অপরাধীরা যখন দেখবে সরকারের নজর অপরাধীদের দিকে নয়, সরকার চুজ অ্যান্ড পিক নীতি নিয়েছে, তারা আরো উৎসাহিত হবে।
ক্রসফায়ার অ্যানকাউন্টারের কারণে দেড় দশকের হাসিনার শাসন ইতিহাসে ভীতিকর অধ্যায় হয়ে থাকবে। জাতি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নরঘাতক হওয়ার পরিণতি কেমন হয়। প্রথমে সরকার এবং সরকারি দল এর দ্বারা উপকৃত হলেও পরে তারা নিজেরাও এই ঘাতকদের শিকারে পরিণত হয়। শেষে কারো জীবনের নিরাপত্তা অবশিষ্ট থাকে না। আইজিপি ক্রসফায়ার শব্দ উচ্চারণ করতেই জাতির উদ্বিগ্ন মনটি কেঁপে উঠেছে। প্রকম্পিত মনটি শত মুখ হয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সরকারি দল, বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজ কেউ বিচারবহির্র্ভূত হত্যার সংস্কৃতি ফিরুক, সেটি চায় না।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, নয়া দিগন্ত
jjshim146@yahoo.com
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








