মোহাম্মাদ ওয়ালিউদ্দিন তানভীর
মতামত লোগো। নয়া দিগন্ত

গণতন্ত্রের প্রতি আমাদের বিশ্বাসের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা হয় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জীবন ও অধিকার রক্ষার প্রশ্নে। নিজের দলের কর্মী নিহত হলে প্রতিবাদ করা সহজ। কিন্তু যার রাজনৈতিক আদর্শ আমরা প্রত্যাখ্যান করি, তার ওপর নৃশংসতা ঘটলেও একইভাবে প্রতিবাদ করতে পারি কি না; সেখানেই গণতান্ত্রিক বোধের পরিচয়। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনীতি এ পরীক্ষায় চরমভাবে ব্যর্থ হয়। পল্টনের রাজপথে মানুষকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার দৃশ্য রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার আড়ালে জমে থাকা নিষ্ঠুরতা প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। 
দুই দশক পর সেদিনের দিকে ফিরে তাকানোর প্রয়োজন শুধু নিহতদের স্মরণ করতে নয়। প্রয়োজন এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যও যে, রাজনৈতিক বিরোধ কিভাবে প্রাণঘাতী সঙ্ঘাতে পরিণত হয়, নেতৃত্বের ভুল হিসাবের মূল্য কেন কর্মীদের দিতে হয় এবং অপরাধীর দলীয় পরিচয় কিভাবে জবাবদিহির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২৮ অক্টোবরকে শুধু একটি দলের শোকের দিন হিসেবে দেখলে এর জাতীয় তাৎপর্য সঙ্কুচিত হয়। সেদিন নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল; কিন্তু তাদের জীবনের অধিকার কোনো দলের অনুগ্রহের বিষয় ছিল না।
২০০৬ সালের সঙ্কটের কেন্দ্রে ছিল নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্ন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের সম্ভাব্য দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আপত্তি ছিল। বিচারপতিদের অবসরের বয়স বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও সেই সন্দেহকে গভীর করেছিল। ক্ষমতাসীনদের বক্তব্য ছিল সাংবিধানিক বিধান অনুসরণের পক্ষে; বিরোধী পক্ষ প্রশ্ন তুলছিল সেই বিধান প্রয়োগের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে।
এ বিরোধের নিষ্পত্তিতে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের মধ্যে সংলাপ হয়েছিল। কিন্তু আলোচনা সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এখানেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব আরো বেড়ে গিয়েছিল। সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার অর্থ আলোচনার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাওয়া নয়; বরং গ্রহণযোগ্য সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেয়া। অথচ রাজনৈতিক শক্তিগুলো ক্রমে রাজপথের নিয়ন্ত্রণকে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার প্রধান উপায় হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছিল।
একটি রাজনৈতিক দাবি যৌক্তিক হলেও তা আদায়ের সব পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। নিরপেক্ষ নির্বাচন দাবির অধিকার থেকে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার অধিকার জন্মায় না। একইভাবে সংবিধান অনুসরণের কথা বললে ক্ষমতাসীনদের সব সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচায়ক হয়ে ওঠে না। ক্ষমতা হস্তান্তরের মতো সংবেদনশীল সময়ে আইনগত কাঠামোর পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা তৈরির দায়িত্বও থাকে। সেই দায়িত্ব পালনে বিদায়ী সরকার এবং জোটের বৃহত্তম দল হিসেবে বিএনপির গুরুতর ঘাটতি ছিল।
এই ব্যর্থতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির সেল থেকে দেখা বাংলাদেশ গ্রন্থে। সাবেক প্রধান বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরীকে প্রধান উপদেষ্টা করার প্রশ্নে তার বিবরণ বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। বইটির ২৭৪ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন, আওয়ামী লীগ মাহমুদুল আমিন চৌধুরীকে চাইলেও খালেদা জিয়া তাকে গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাদের কানে এসেছিল, তিনি ছাত্রজীবনে আবদুস সামাদ আজাদের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেছিলেন। কামারুজ্জামান নিজে এই শোনা তথ্যের সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার বিবরণ অনুযায়ী, জোটের ভেতর থেকেও মাহমুদুল আমিনকে দায়িত্ব গ্রহণের অনুরোধ জানানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছিল; কিন্তু নেতিবাচক তথ্যের কারণে খালেদা জিয়া তাতে সম্মতি দেননি।
একজন রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারীর স্মৃতিকথাকে অবশ্যই তার অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় রেখে পড়তে হয়। তবু এ বিবরণ একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনে। একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়নের ভিত্তি কি তার পেশাগত সততা, বিচারিক আচরণ ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা হবে, নাকি কার বাড়িতে থেকে তিনি পড়াশোনা করেছেন সেটি? রাজনৈতিক পরিচিতি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ নিয়ে সন্দেহ যদি যোগ্যতার মূল্যায়নকে ছাপিয়ে যায়, তাহলে নিরপেক্ষ ব্যক্তির সন্ধান ক্রমে অসম্ভব হয়ে পড়ে। তখন নিরপেক্ষতার অর্থ হয়ে দাঁড়ায় নিজের দলের কাছে সন্দেহমুক্ত থাকা।
কে এম হাসান দায়িত্ব গ্রহণে অসম্মতি জানানোর পরও সাংবিধানিক বিকল্প শেষ হয়ে যায়নি। তৎকালীন ৫৮ (গ) অনুচ্ছেদে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে যোগ্য নাগরিককে দায়িত্ব দেয়ার পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা ছিল। পূর্ববর্তী বিকল্পগুলো কার্যকর করা না গেলে রাষ্ট্রপতির নিজের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের কথা আসত। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণকে শুরু থেকে সহজ সমাধান হিসেবে দেখার পরিবর্তে অন্য পথগুলো আন্তরিকভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন ছিল।
২৯ অক্টোবর ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণ সেই আস্থার সঙ্কট দূর করতে পারেনি। তবে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিএনপির অদূরদর্শিতার সমালোচনা করে ২৮ অক্টোবরের হামলা ও হত্যাকাণ্ডের দায় আড়াল করা যাবে না। রাজনৈতিক ব্যর্থতা এবং নির্দিষ্ট সহিংস অপরাধের দায় পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। একটি পক্ষ সমঝোতায় ব্যর্থ হয়েছে বলে অন্য পক্ষ মানুষ হত্যার অনুমতি পায় না। প্রতিপক্ষের ভুল সিদ্ধান্তকে নিজের সহিংসতার নৈতিক অনুমোদন হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাংলাদেশের রাজনীতিকে বারবার বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে গেছে।
পল্টনের হত্যাকাণ্ডের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল মানুষের অসহায় অবস্থার ওপরও আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার নিষ্ঠুরতা। কোনো দলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ থাকুক, তার কর্মীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অধিকার কারো নেই। 
এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও শক্ত প্রশ্ন তুলতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তির সমাবেশ, তীব্র উত্তেজনা এবং সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকা অবস্থায় কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোথায় ছিল? বিপন্ন মানুষকে রক্ষার দায়িত্ব কে পালন করছিল? কামারুজ্জামান তার বইয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ করেছেন। 
রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিকল্পনার দুর্বলতা, পুলিশের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতা এবং হামলাকারীর অপরাধ— প্রতিটি বিষয় আলাদা অনুসন্ধান ও জবাবদিহি দাবি করে।
২৮ অক্টোবরের উত্তরাধিকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বিচারপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব। ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশসহ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত শেখ হাসিনা ও অন্য ৪৫ জনের বিরুদ্ধে পল্টন হত্যা মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি দেন। সরকারের বক্তব্য ছিল— মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মূল এজাহারে শেখ হাসিনার নাম ছিল না; পরে অভিযোগপত্রে তাকে অন্তর্ভুুক্ত করা হয়।
এখানে দু’টি দায়িত্ব একই সাথে পালন করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাউকে মামলায় জড়ানো হয়ে থাকলে তাকে সেই হয়রানি থেকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি সহিংসতার ভিত্তি তৈরি করে। অপরাধী যখন দেখে রাজনৈতিক আশ্রয় তাকে বিচারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে, তখন ক্ষমতা অর্জন তার কাছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও হয়ে ওঠে। আর ভুক্তভোগী যখন দেখে ক্ষমতার পরিবর্তনের সাথে ন্যায়বিচারের সম্ভাবনা বদলে যায়, তখন আইনের ওপর তার আস্থা ক্ষয়ে যায়। 
২৮ অক্টোবরের পরিণতি আলোচনা করতে গিয়ে ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গ অনিবার্যভাবে আসে। কিন্তু একটি দিনের সহিংসতা সেই পরিবর্তন ঘটিয়েছিল— এমন ব্যাখ্যা ইতিহাসকে অতিরিক্ত সরল করে। নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্কট, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো নিয়ে বিরোধ, অব্যাহত রাজনৈতিক সঙ্ঘাত এবং নেতৃত্বের সমঝোতায় ব্যর্থতা মিলিয়ে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২৮ অক্টোবর সেই সঙ্কটের ভয়াবহ প্রকাশ।  
রাজনৈতিক নেতৃত্বের এমন ব্যর্থতা তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সুযোগ সৃষ্টি করে। সঙ্ঘাত থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় নাগরিক তখন অধিকার সঙ্কোচনের ঝুঁকিও উপেক্ষা করেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা কোনো অনির্বাচিত কর্তৃপক্ষকে সীমাহীন ক্ষমতার অধিকার দেয় না। 
পরবর্তী কর্তৃত্ববাদের সাথে ২৮ অক্টোবরের সম্পর্কও সতর্কভাবে বিচার করা প্রয়োজন। সেদিনই ভবিষ্যতের সব নিপীড়নের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছিল। এমন দাবি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন নেই। বরং দেখতে হবে, প্রতিপক্ষকে সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে অস্বীকার করা, তার ওপর সহিংসতার ব্যাখ্যা দাঁড় করানো এবং দলীয় স্বার্থে জবাবদিহি দুর্বল করার প্রবণতা কিভাবে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে টিকে থাকে। রাজপথে যে সহিংসতা প্রশ্রয় পায়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সংস্পর্শে এসে তা আরো বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
এ কারণে মানবাধিকারের প্রশ্নে বাছাই করা প্রতিবাদ বিপজ্জনক। জামায়াতের কর্মীর ওপর হামলায় নীরব থেকে বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কর্মীর জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা যায় না। একই শিক্ষা প্রত্যেক দলের নিজের আচরণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ২৮ অক্টোবরের নিহতদের স্মরণ তাই দলীয় কর্মসূচি ও বার্ষিক বক্তৃতার বাইরে যেতে হবে। মূল ভিডিওচিত্র, চিকিৎসার নথি, মামলার দলিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ সংরক্ষণ প্রয়োজন। অনুসন্ধান হতে হবে নিরপেক্ষ, সাক্ষীদের নিরাপত্তা থাকতে হবে এবং দায় নির্ধারিত হতে হবে ব্যক্তির প্রমাণিত ভূমিকার ভিত্তিতে। একই সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের সিদ্ধান্তের সমালোচনামূলক মূল্যায়ন করা প্রয়োজন— কোথায় সমঝোতার সুযোগ হারিয়েছে, কোথায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং কোথায় নিজেদের কর্মীদের অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিতে ফেলেছে।
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ দিনের সহিংসতা তাৎক্ষণিকভাবে বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। সেই সাথে পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে আরো জটিল করে তুলেছিল। সেই সঙ্কটের ধারাবাহিকতায় দেশ ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির জরুরি অবস্থা এবং সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক শাসনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়।
২৮ অক্টোবরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো— রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই যখন সাংবিধানিক সীমারেখা অতিক্রম করে সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তার মূল্য দিতে হয় পুরো জাতিকে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামো। আজকের বাংলাদেশ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রশ্নে যে গভীর অচলাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে এ শিক্ষা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সঙ্কট থেকে উত্তরণে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সংলাপ এবং সমঝোতার পথে ফিরতে হবে। জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একতরফা সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা পরিহার করতে হবে; বিরোধী দলগুলোকেও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব ও প্রয়োজনীয় ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অন্যথায় পারস্পরিক অবিশ্বাস ও অনমনীয়তা দেশকে আবারো অনির্বাচিত শাসন এবং অনিশ্চিত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। 
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
mwtanvir@gmail.com

Advertisement