
কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া ২০২৬ সালের ২১ অক্টোবর দোহায় ‘বদর’ নামে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। উদ্দেশ্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা জোরদার করা।
উপসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের চারটি মুসলিম রাষ্ট্রের এই উদ্যোগ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে শুরুতেই একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। প্রকাশিত ঘোষণায় এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে অন্য তিন দেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেবে, এমন বাধ্যবাধকতার কথা পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে যৌথ সামরিক প্রতিরক্ষা জোট বলার চেয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প ও সক্ষমতাভিত্তিক বহুপক্ষীয় অংশীদারত্ব বলা অধিক যথাযথ।
এই পার্থক্য সত্ত্বেও উদ্যোগটির গুরুত্ব কম নয়। আধুনিক সামরিক শক্তি শুধু সৈন্যসংখ্যা, বা সমরাস্ত্রের ওপর নির্ভর করে না। অস্ত্র উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, যুদ্ধকালীন গোলাবারুদ সরবরাহ, খুচরা যন্ত্রাংশের নিশ্চয়তা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং দক্ষ জনবল তৈরির সক্ষমতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত অস্ত্র কিনেও কোনো দেশ কার্যকর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে না, যদি সঙ্কটের সময় সেই অস্ত্র সচল রাখার প্রয়োজনীয় উপকরণ ও কারিগরি সহায়তা না থাকে।
বদর সমঝোতার ঘোষিত লক্ষ্য হলো অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর সামর্থ্য পরস্পরের সাথে যুক্ত করা। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ বিনিময়, শিল্প সক্ষমতা বৃদ্ধি, যৌথ উৎপাদন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ অনুসন্ধানের কথা বলেছেন।
এই অংশীদারত্বে তুরস্কের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য তিন দেশের সাথে তুরস্কের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা নতুন ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। পাকিস্তানের সাথে চারটি মিলগেম করভেট নির্মাণ প্রকল্পে ইস্তাম্বুল ও করাচি-উভয় স্থানে জাহাজ নির্মাণের ব্যবস্থা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সাথে তুরস্কের এফএনএসএস ও পিটি পিনদাদের যৌথ উদ্যোগে কাপলান এমটি মাঝারি ট্যাংক প্রকল্প গড়ে উঠেছে। কাতারেও বারজান হোল্ডিংস ও তুর্কি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্বে দূরনিয়ন্ত্রিত অস্ত্রব্যবস্থা এবং ইলেকট্রো-অপটিক্যাল সরঞ্জামসংক্রান্ত শিল্প কার্যক্রম রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা বৃহত্তর সহযোগিতার বাস্তব ভিত্তি দিতে পারে। কৌশলগত বিশ্লেষণে বলা যায়, পৃথক দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পগুলোকে একটি বিস্তৃত উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসাই হতে পারে এই উদ্যোগের বড় সুযোগ। এক দেশ নকশা ও প্রযুক্তি দিতে পারে, অন্য দেশ নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারে, আরেক দেশ অর্থায়ন বা উৎপাদন অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে। প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা, মেরামত এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ভাগ করা সম্ভব।
পাকিস্তানের জন্য এই উদ্যোগ শিল্পভিত্তি সম্প্রসারণ, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরক্ষা পণ্যের বাজার বিস্তারের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। যৌথ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রস্তুতি ধরে রাখতেও সহায়ক হতে পারে। তবে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ বলে এই সমঝোতার মাধ্যমে অন্য অংশগ্রহণকারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার পারমাণবিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেয়ে যাবে এমন নয়। প্রকাশিত বদর ঘোষণায় এ ধরনের প্রতিশ্রুতি নেই।
কাতারের জন্য এর সম্ভাব্য গুরুত্ব হলো প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি নিজস্ব শিল্প ও কারিগরি সক্ষমতা গড়ে তোলা। উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ সামরিক শক্তি বাড়ায়; কিন্তু স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা, মেরামত, যন্ত্রাংশ উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে সেই শক্তি টেকসই করা সহজ হয়। তাই কাতারের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান ফল হতে পারে দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরি এবং প্রয়োজনীয় উৎপাদন অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা।
ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ এই উদ্যোগে আরো বিস্তৃত এশীয় মাত্রা দিয়েছে। দেশটির ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনায় নির্ভরযোগ্য পরিবহন, রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষণগতভাবে বলা যায়, স্থানীয় শিল্পের সাথে প্রতিরক্ষা প্রয়োজনকে যুক্ত করতে পারলে এ ধরনের সহযোগিতা দেশটির জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে বিদ্যমান ট্যাংক প্রকল্পটিকে বদর সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যৎ সব সহযোগিতার নির্দেশক হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; নতুন প্রকল্প আলাদাভাবে নির্ধারিত হবে।
সমঝোতা বাস্তবায়নের সাংগঠনিক ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। আনাদোলুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি নির্বাহী পর্ষদ যৌথ প্রকল্প চিহ্নিত করবে এবং একটি কৌশলগত পর্ষদ সেগুলো অনুমোদন করে সময়সূচি নির্ধারণ করবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রায়ই উচ্চাভিলাষী ঘোষণা দেয়া হয়, কিন্তু অর্থায়ন, দায়িত্ব বণ্টন ও সময়সীমা স্পষ্ট না থাকায় অগ্রগতি থেমে যায়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সেই দুর্বলতা কাটাতে সহায়ক হতে পারে; যদিও এর কার্যকারিতা বাস্তব কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে।
এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলোর একটি হলো প্রযুক্তি হস্তান্তর। কিন্তু বিষয়টি সতর্কভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে সংযোজন করা এবং একটি সামরিক ব্যবস্থা নিজস্বভাবে নকশা, পরিবর্তন ও রক্ষণাবেক্ষণ করার সামর্থ্য অর্জন করা এক বিষয় নয়। প্রকৃত সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মেধাস্বত্ব, প্রকৌশল নথি, সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার, যন্ত্রাংশ তৈরির অনুমতি, মেরামতের অধিকার এবং রফতানির শর্ত স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এসব অধিকার সীমিত থাকলে স্থানীয় সংযোজন বাড়লেও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরতা থেকে যেতে পারে। অন্য দিকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও অধিকার নিশ্চিত হলে ধীরে ধীরে নিজস্ব শিল্প সক্ষমতা গড়ে ওঠে। ফলে বদর সমঝোতার সাফল্য শুধু কতটি অস্ত্র তৈরি হলো, তা দিয়ে বিচার করা যাবে না; অংশগ্রহণকারী দেশগুলো কতটা কার্যকর প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সামর্থ্য অর্জন করল, সেটি দেখতে হবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও যৌথ উদ্যোগের যুক্তি রয়েছে। গবেষণা, নকশা, পরীক্ষা ও মান নিশ্চিত করার ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত বেশি। অল্পসংখ্যক সরঞ্জামের জন্য আলাদা উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনা ব্যয়বহুল হতে পারে। একাধিক দেশ অভিন্ন চাহিদা নির্ধারণ করে উৎপাদনের অঙ্গীকার করলে ব্যয় ভাগ করা এবং বৃহত্তর উৎপাদনের সুবিধা নেয়া সম্ভব। প্রতিরক্ষা শিল্পে অর্জিত কিছু দক্ষতা বেসামরিক ইলেকট্রনিকস, সফটওয়্যার, প্রকৌশল ও উৎপাদন খাতেও কাজে লাগতে পারে। তবে এসব সুফল স্বয়ংক্রিয় নয়। চার দেশের সামরিক প্রয়োজন, আবহাওয়া, ভূপ্রকৃতি, পরিচালন পদ্ধতি এবং অর্থনৈতিক সামর্থ্য ভিন্ন। এক দেশের জন্য উপযোগী সরঞ্জাম অন্য দেশের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন ছাড়া কার্যকর নাও হতে পারে। উৎপাদনের অংশ বণ্টন, মূল্য নির্ধারণ, সরবরাহের অগ্রাধিকার কিংবা তৃতীয় দেশে রফতানি নিয়ে মতবিরোধও দেখা দিতে পারে। তাই শুরু থেকেই বাস্তবসম্মত লক্ষ্য, স্বচ্ছ হিসাব এবং দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন।
কৌশলগতভাবে এই অংশীদারত্ব বাইরের সরবরাহকারীদের সাথে দরকষাকষিতে সদস্যদের বিকল্প বাড়াতে পারে। একক উৎসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থাকলে রাজনৈতিক বিরোধ, রফতানি নিষেধাজ্ঞা কিংবা সরবরাহ বিঘ্ন সামরিক প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থাকলে সেই ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে সম্পূর্ণ স্বনির্ভরতা অর্জন অনেক কঠিন। যৌথভাবে তৈরি সামরিক সরঞ্জামেও তৃতীয় দেশের ইঞ্জিন, সেন্সর, সফটওয়্যার, সেমিকন্ডাক্টর কিংবা উৎপাদনযন্ত্র ব্যবহার হতে পারে। এসব উপাদানের ওপর আরোপিত রফতানি ও লাইসেন্সের বিধিনিষেধ চার দেশের সমঝোতার কারণে উঠে যাবে না। তাই নতুন অস্ত্র তৈরি করার পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলাও জরুরি।
বদর সমঝোতাকে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পৃথক প্রতিরক্ষা চুক্তির সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পৃথক চুক্তিতে এক পক্ষের ওপর আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে। কিন্তু ভিন্ন সদস্য ও ভিন্ন ঘোষিত উদ্দেশ্যের বদর সমঝোতায় সেই বাধ্যবাধকতা নেই।
অভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় রাজনৈতিক আস্থা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে; কিন্তু কার্যকর সামরিক জোটের জন্য সুনির্দিষ্ট প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার, যৌথ পরিকল্পনা, কমান্ড কাঠামো এবং সঙ্কট মোকাবেলার নিয়ম প্রয়োজন। প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বদর ব্যবস্থায় এসব বৈশিষ্ট্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা যাচ্ছে না।
নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তও প্রমাণ ছাড়া টানা উচিত নয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার, তুরস্কের আঞ্চলিক স্বার্থ, কাতারের প্রতিরক্ষা প্রয়োজন এবং ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত বিবেচনা এক নয়। অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতার আগ্রহ থাকলেই সব আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে অভিন্ন সামরিক অবস্থান নেয়ার প্রস্তুতি রয়েছে, এমন নয়।
বাংলাদেশের জন্য এই উদ্যোগ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়। কাতারের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, চার দেশের সম্মত মানদণ্ড অনুযায়ী অন্য বন্ধুরাষ্ট্রও সমঝোতায় যুক্ত হতে পারবে। ফলে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কিংবা যোগদানের শর্ত ইতোমধ্যে নির্ধারিত— এমন তথ্য ওই ঘোষণায় নেই।
বাংলাদেশের মূল্যায়নের ভিত্তি হওয়া উচিত নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ ও প্রতিরক্ষা প্রয়োজন। যে কোনো সহযোগিতায় বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন পরিমাপযোগ্য সুবিধা অর্জন। প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে প্রবেশাধিকার, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরি, নির্ভরযোগ্য খুচরা যন্ত্রাংশ, স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ এবং সরঞ্জামের পুরো ব্যবহারকালজুড়ে গ্রহণযোগ্য ব্যয় নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক দায়বদ্ধতা থাকলে তা জাতীয় স্বার্থের আলোকে পরীক্ষা করতে হবে।
বদর সমঝোতার বৃহত্তর শিক্ষা হলো, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এখন ক্রমেই শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং টেকসই অংশীদারত্বের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। অস্ত্র কেনার সাথে তার রক্ষণাবেক্ষণ, গোলাবারুদ, কারিগরি জ্ঞান ও বিকল্প সরবরাহ নিশ্চিত না করলে সক্ষমতায় গুরুতর ঘাটতি থেকে যায়। এই উদ্যোগের প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে স্বাক্ষরের পর কী ঘটে তার ভিত্তিতে। অর্থায়নপ্রাপ্ত প্রকল্প, কার্যকর প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষিত জনবল, সচল কারখানা এবং নির্ভরযোগ্য সামরিক সরঞ্জাম তৈরি হলে বদর অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করবে।
লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক
hrmrokan@hotmail.com
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








