দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, প্রয়োজন সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ

রাশিদুল ইসলাম

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরো বড় আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যুদ্ধের ভরকেন্দ্র এখন আগামী নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলের পরবর্তী নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই ইরান যুদ্ধ থেকে ইসরাইল ও আমেরিকা কিছুটা পর্দার আড়ালে চলে যেতে বাধ্য হলেও নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে এ দু’টি পরাশক্তি। ইতোমধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের সংঘর্ষ নতুন করে এ যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাবে বলে শঙ্কা  বিশ্লেষকদের। হরমুজ প্রণালী ও বাব আল মান্দেব প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পর সুয়েজখাল দিয়ে অল্প পরিসরে তেল রফতানি চালু রাখার চেষ্টা করছে সৌদি আরব। এই সুযোগে জর্দানে রেলপথ বা পাইপলাইনের মাধ্যমে হাইফা বন্দর দিয়ে সৌদি আরবসহ অন্য আরবদেশগুলো তেল রফতানির বিকল্প পথ অনুসরণে বাধ্য হোক তা চাইছে ইসরাইল। এর বিপরীতে তুরস্ক চাইছে জর্দান ও ইরাক হয়ে মক্কা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে এবং এমন এক সময়ে বাংলাদেশকেও প্রয়োজনীয় সতর্ক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আগাতে হবে। কারণ সৌদি আরবে তেল নির্ভর অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাভাবিকভাবে এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশী প্রবাসীদের ওপর এবং দেশটি থেকে জালানি আমদানির বিকল্প পথে যেয়ে বাংলাদেশকে অনেক বেশি খরচ করতে হবে। হরমুজ ও বাব আল মান্দেব ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আফ্রিকা ঘুরে বিকল্প পথে বাংলাদেশকে ইউরোপসহ অন্যান্য গন্তব্যে আমদানি ও রফতানিতে বাড়তি খরচ দিতে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত হলে মূল্যস্ফীতির বাড়তি চাপ বইতে হবে বাংলাদেশকেও।
আঞ্চলিক উদ্বেগ
সৌদি আরবের জ্বালানি খাতকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা নতুন নয়। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের অংশ হিসেবে হুথিরা এর আগে দু’টি সৌদি জাহাজে হামলা করে। হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাবে প্রণালীর কাছাকাছি। অন্য দিকে ইয়েমেনের এডেন বন্দর দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ করে রেখেছে সৌদি আরব। ইয়েমেনে হামলা চালাতে ব্রিটেনকে অনুরোধ জানিয়েছে সৌদি সরকার। ওয়াশিংটন রিয়াদের অনুরূপ আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর সৌদি আরব এই অনুরোধ জানায় বলে বলছে ব্লুমবার্গ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সৌদি যুবরাজ বিন সালমান মিসর সফর ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সহায়তা চেয়েছেন বলে ইসরাইলি পত্রিকা হাইওম এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে। বিন সালমান জেদ্দায় মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিভিন্ন অবস্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। অন্য দিকে হুথিদের পাল্টা আক্রমণের মুখে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়েছে এবং অন্তত দুই হাজার ইয়েমেনি সেনা জিবুতিতে পালিয়ে গিয়ে জাতিসঙ্ঘের শরণাপন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরব একযোগে হুথির বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলে মধ্যপ্রাচ্যে আরো বড় ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি শহর ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হুথিদের হামলায় অন্তত ৭৩ জন বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় আবহা, খামিস মুশাইত, জাজান ও নাজরান শহর আক্রান্ত হয়েছে।
উত্তেজনা প্রশমনের উপায়
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এম শাহীদুজ্জামান মনে করেন সৌদি আরবের উচিত হুথিদের থামাতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টিতে চীনের শরণাপন্ন হওয়া। যেহেতু মক্কা প্যাক্ট এখনো প্রাতিষ্ঠানিক কোনো কাঠামো সৃষ্টি করতে পারেনি তাই সৌদি আরবের উচিত হুথিদের সাথে যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়া। হুথিদের ওপর দীর্ঘদিনের দমন নীতি অব্যাহত রাখলে এর সুযোগ নেবে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলার পর সৌদি আরবের ওপর থেকে ‘সিকিউরিটি আমব্রেলা’ সরিয়ে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি ইসরাইলকে রক্ষায় ব্যয় করবে। সৌদি আরব অতীতে কখনো এতখানি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েনি। রিয়াদের উচিত তেহরানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করে ইরান-পাকিস্তান রেলপথ দিয়ে চীনে তেল রফতানির সুযোগ সৃষ্টি করা।
সৌদির তেলশিপমেন্ট বন্ধের রহস্য
সৌদি আরবের ইস্টওয়েস্ট পাইপ লাইনে রহস্যজনক হামলা করা হয় ইরাক থেকে। ইরাক সরকার অবশ্য এ হামলার বিরুদ্ধে মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন এ হামলা ইরান করতে পারে। ইরান তেল রফতানি করতে না পারলে অন্য কোনো দেশকে তেল রফতানি করতে দেয়া হবে না বলছে তেহরান। তুরস্কের কারাবুক ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগের বাংলাদেশী অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম মনে করেন হরমুজ, বাব আল মান্দেব এমনকি সুয়েজখাল প্রণালীতে জাহাজ চলাচল যত ঝুঁকিতে পড়বে ইসরাইলের হাইফা বন্দর দিয়ে বিকল্প চলাচলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ততই সহজ হবে। এ জন্যই ইসরাইল চায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরো খারাপ হোক। ইসরাইল ও আমিরাত জর্দানে পাইপলাইনের মাধ্যমে হাইফা বন্দরের ওপর আরবদেশগুলোর নির্ভরশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। কিন্তু তুরস্ক পাল্টা জর্দান, ইরাক হয়ে সৌদি আরব হাইস্পিড রেললাইন নির্মাণের আলোচনা শুরু করেছে। তুরস্ক জানে ইসরাইল চায় না মক্কা প্যাক্ট সফল হোক। ইস্তাম্বুল চায় মধ্যপ্রাচ্যে বিকল্প এক এয়ার ডিফেন্স।
মক্কা প্যাক্ট কি নিষ্ক্রীয়
হুথিদের অরাষ্ট্রীয় শক্তি অভিহিত করে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জিওটিভিকে বলেছেন, মুসলিম বিশ্বে ইরানের প্রতি সহানুভূতি ও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। ইয়েমেনও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে কোনো দ্বিপক্ষীয় বিরোধকে কাজে লাগাতে অরাষ্ট্রীয় শক্তিকে ব্যবহার করা হলে তা হুথিদের জন্যই ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আরেকটি বড় উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো। অর্থাৎ কোনো হামলা হলে একই ধরনের পাল্টা হামলা চালাতেই হবে-এমন নয়। তিনি বলেন, ইটের জবাব পাথর দিয়ে দিতেই হবে- এমন নয়। সবচেয়ে জরুরি হলো এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে পুরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। কারণ চলমান সঙ্ঘাতে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই ঝুঁকির মুখে রয়েছে। তার মতে, হুথিরা যদি সঙ্ঘাতকে সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যায়, তাহলে চুক্তির আগ্রাসন প্রতিরোধের ধারাগুলো কার্যকর হয়ে যেতে পারে।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আমেরিকান প্রকৌশলী এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাবিনা আহমেদের ধারণা আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলে নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, ইসরাইলি নেতা নাফতালি বেনেট বলছেন ইরান নিয়ে তাদের লক্ষ্য অর্জন শেষ এখন পরবর্তী টার্গেট তুরস্ক। গাজায় পিচবোর্ডও এখন ইসরাইল নাকচ করে দিয়েছে। ইসরাইল, আমিরাত ও ভারত প্রচুর হাইটেক সামরিক সরঞ্জাম তৈরি করছে। তুরস্ক সিরিয়ার সাথে বাফার জোন তৈরি করছে। সিরিয়ায় বেশ কিছু সেতু তৈরি করে তুরস্ক দেশটিতে ফুটরোল স্থাপনে অগ্রসর হচ্ছে। তুরস্কে প্রচুর বোমা শেল্টার তৈরির প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী এয়ার ডিফেন্স ও প্রচুর যুদ্ধ বিমান। গ্রানাইড পাথর ও রকি পর্বতমালা থাকার কারণে ইরানের মতো মাটির নিচে প্রতিরক্ষা শহর গড়ে তোলার মতো মডেল নেবে না তুরস্ক। বরং ধাপে ধাপে মক্কা প্যাক্টকে আরো সক্রিয় করা হবে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেছেন, নির্দিষ্ট কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয় বরং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখা ও জোট বিস্তারের জন্যেই মক্কা প্যাক্টের ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো জোরদার করা হবে।
কী করবে বাংলাদেশ
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কম নয়। অর্থনীতির চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স থেকে জালানি নিরাপত্তার বেশির ভাগ নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ওপর। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এম সাখাওয়াত হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন আমাদের সতর্ক হওয়া আগেই উচিত ছিল। বাব আল মান্দেব বন্ধ করে দেয়ার হুমকি বহু আগে হুথিরা দিয়ে যাচ্ছে। ফাইটটা হচ্ছে আমেরিকান অ্যালাই এবং ইরানের মধ্যে। ইরানের ওপর হামলার শঙ্কা দেশটি অনেক আগেই উপলব্ধি করে তারা ইরাক, লেবানন ও ইয়েমেনে সহযোগী যোদ্ধা তৈরি করেছে। তারা বা হুথিরা যুদ্ধ করছে ইরানের জন্য। ইরানকে আমেরিকা বেষ্টিত করে পিটাতে চাইলে তারাওতো রিঅ্যাক্ট করবে। সৌদি আরব ইয়েমেনের শাসকদের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বহু আগে থেকে। যুদ্ধ হচ্ছে হুথিদের সাথে গত ১৪ বছর ধরে। এখন মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে পূর্ব প্রস্তুতি না থাকায় সবকিছুর জন্যে বাড়তি পয়সা খরচ করতে হবে। গার্মেন্ট পণ্য এখন আফ্রিকা ঘুরে যেতে হবে। ইউরোপ বা সেন্ট্রাল এশিয়ার সাথে আমাদের কোনো স্থল সংযোগ নাই যে ট্রেনে পণ্য চলে যাবে। ফলে আমদানি-রফতানি খরচ বেড়ে যাবে। ইন্স্যুরেন্স খরচও বাড়বে। তেল ও গ্যাসের ব্যাপারটাতো আছেই। অভিয়াসলি মূল্যস্ফীতিতে এসব প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, পলিসি মেকারদের এসব নিয়ে গবেষণা করা উচিত। কী হলে কী হতে পারে। কিন্তু গাছ থেকে তাল পড়লে আমরা রিঅ্যাকশন করি। সবাই দৌড়ে যাই। কিন্তু তালটা যে পড়বে, পড়ার আগে কী করতে হবে এটা আমরা জানি না। সবসময় রিঅ্যাক্টিভ ভূমিকা, প্রোঅ্যাক্টিভ হতে পারি না। কোনো সরকার কোনো কনসালটেটিভ বডি তৈরি করেনি বা এমন কোনো পরামর্শদাতাদের কথা শোনেনি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও এসব বিষয় নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। খুব কম সংখ্যক সিনিয়র কূটনীতিবিদ দুনিয়া সম্পর্কে খবর রাখেন, আবার চাটুকারিতার কারণে অনেকে সত্য কথা বলতে চান না।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিন স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিতে ইসরাইল রাজি না হওয়ায় সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডে যায়নি। এরপর নেতানিয়াহু ভুল করে ইরান আক্রমণ করায় এটা ব্যহত হয়েছে। সৌদি আরব আব্রাহাম অ্যাকর্ডে ঢুকে পড়লে পাকিস্তানও তাতে যোগ দিত। ইরানের টিকে থাকার কারণ হচ্ছে এডুকেশন এবং এডুকেশন, নাথিং ইলস। দেশটির ৯৫ শতাংশ মানুষ শিক্ষিত যাদের ৬০ শতাংশ উচ্চ শিক্ষিত। ১০ জনের মধ্যে খুঁজলে আটজন পাবেন পিএইচডি, খয়রাতি না, পিএইচডি অন টেকনিক্যাল ইস্যুজ। যে কারণে তারা আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে টিকে আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। ইউ হ্যাভ টু থিংক, হোয়াট ইজ ইওর ফিউচার অ্যাকশন। ৫৬ বছর হয়ে গেছে, জাতি হিসেবে টিকে থাকতে হলে করণীয় কী তা ঠিক করতে হবে। কুড়ি বছর পর কী হতে পারে তা এখন ঠিক করে আগাতে হবে।    
মক্কা প্যাক্টে কেন যোগ দেবে বাংলাদেশ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সাবিনা আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থান, বন্দর, এয়ার স্পেস ও বঙ্গোপসাগর মক্কা প্যাক্টের জন্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ওআইসির প্রভাবশালী সদস্য দেশ বাংলাদেশের সস্তা শ্রম ও বিশাল ভোক্তা বাজারে মক্কা প্যাক্টের তিন সদস্য দেশের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বাইরে বাংলাদেশ এলিট ক্লাবের মেম্বার হলে প্রেফারেন্সিয়াল বাজার পাবে। একই সাথে সৌদি আরবের তেল আমদানি ও দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি রফতানির বিশেষ সুযোগ পাবে। তুরস্কের প্রযুক্তি বাংলাদেশে ম্যানুফ্যাকচার হাব গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ভারত ব্যাপকভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন ও অস্ত্র উৎপাদনে ইসরাইলের সাথে যৌথ উদ্যোগ নেয়ার পর বাংলাদেশ মক্কা প্যাক্টে যোগ দেয়া অনেকটা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এতে পাকিস্তানের সাথে আধুনিক যুদ্ধের মহড়া ও আকাশ প্রতিরক্ষায় যৌথ ভূমিকা পালন করতে পারবে বাংলাদেশ।  ন্যাটোর তিন বছর পর পর সদস্যদেশগুলোর ৯২ হাজার সেনার যৌথ মহড়ার মতো মক্কা প্যাক্টে যোগ দিয়ে আধুনিক মহড়া ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশের সেনারা। মক্কা প্যাক্টে বাংলাদেশের সম্ভাবনায় ভারতের মিডিয়ায় এক ধরনের বিরোধিতার বিষয়টি নাকচ করে সাবিনা আহমেদ বলেন ভারত চাপ সৃষ্টি করবেই। সেই চাপ শক্তিশালীভাবে মোকাবেলা করতে হলে দেশটির সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনতে বিকল্প বাজারের সন্ধান করতে হবে। ভারত বাংলাদেশে বছরে ১০.৯৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করলেও বাংলাদেশ ভারতে করে মাত্র ১.৭৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। শুল্ক জটিলতা, ট্রানজিটে বাধা সৃষ্টি, সীমান্তে পুশইন, উত্তেজনা, বাংলাদেশীদের হত্যা, অভিন্ন নদীর পানি হিস্যায় গড়িমসি করে ভারত দশকের পর দশক প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করেনি। ভারত চায় হাসিনা বা হাসিনার মতো সরকার বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকুক। আমদানি হ্রাসে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা, রফতানি পণ্যে প্রাণবৈচিত্র্য ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা তৈরি নিজেদেরকেই করতে হবে।