রফতানি উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ পেতে কড়াকড়ি

 বিশেষ সংবাদদাতা

 

* ২৭০ দিনের বেশি আমদানি বিল বকেয়া থাকলে সহযোগিতা দেয়া হবে না
*  রফতানিকারকদের জন্য বাড়তে পারে নগদ প্রবাহের চাপ

ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের (এলসি) বিপরীতে স্থানীয়ভাবে পণ্য সরবরাহের বিল ২৭০ দিনের বেশি বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারককে রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হবে না। এ বিষয়ে বুধবার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ (এফইপিডি)। নতুন নির্দেশনার ফলে ইডিএফ ঋণের আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকের বকেয়া দায় যাচাই করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগের নির্দেশনা অনুযায়ী, ইডিএফ ঋণের আবেদন পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারকের বকেয়া অবস্থান যাচাই করতে হয়। অন্য দিকে, গত ১৩ আগস্টের নির্দেশনায় ব্যাক-টু-ব্যাক আমদানি এলসি সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ইউসেন্সে খোলার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই দুই নির্দেশনার মধ্যে সামঞ্জস্য আনতেই নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির মাধ্যমে কাঁচামাল বা পণ্য আমদানি করে তা স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করার পর সংশ্লিষ্ট বিল ২৭০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো বিল ২৭০ দিনের বেশি সময় বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ইডিএফ ঋণের আবেদন বিবেচনায় বাধার মুখে পড়বে। এতে এডি ব্যাংকগুলোকে ঋণ আবেদন যাচাইয়ের সময় শুধু ঋণগ্রহীতার সামগ্রিক দায় নয়, স্থানীয় সরবরাহের বকেয়া বিলের অবস্থাও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে যেসব রফতানিকারক স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কাঁচামাল বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে দীর্ঘ সময় পর বিল  পরিশোধ করেন, তাদের ওপর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল নিষ্পত্তির চাপ বাড়ায় ব্যবসায়ীদের কার্যকরী মূলধন ব্যবস্থাপনা আরো শক্ত করতে হবে।
বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় ক্রেতার কাছ থেকে পাওনা আদায়ে দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে, তাদের নগদ প্রবাহে চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ইডিএফ সুবিধা হারানোর ঝুঁকি এড়াতে বিল পরিশোধ ও পাওনা আদায়ের ব্যবস্থাপনায় আরো শৃঙ্খলা প্রয়োজন হবে। প্রথমত, স্থানীয় সরবরাহকারীদের বিল দীর্ঘদিন আটকে থাকার প্রবণতা কমতে পারে। এতে সরবরাহকারীদের নগদ প্রবাহ উন্নত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত, রফতানিকারকদের আর্থিক শৃঙ্খলা বাড়বে। ইডিএফ সুবিধা ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময়মতো দায় পরিশোধে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। তৃতীয়ত, ব্যাংকগুলো ঋণগ্রহীতার প্রকৃত আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে আরো পরিষ্কার ধারণা পাবে। এতে ঋণঝুঁকি মূল্যায়ন কিছুটা শক্তিশালী হতে পারে।