তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জার্মানিকে আমন্ত্রণ স্পিকারের
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ ছবি: নয়া দিগন্ত

সংসদ প্রতিবেদক

 

* সার কারখানা স্থাপন ও বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান 
* সংসদীয় কূটনীতি জোরদারে মৈত্রী গ্রুপ গঠনের আলোচনা

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সাথে বাংলাদেশে জার্মানির বিনিয়োগ বাড়াতে উপকূলীয় এলাকায় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকারের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের প্রচলিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জার্মানি ও বাংলাদেশ উভয় দেশই গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বলে মন্তব্য করেন স্পিকার।
স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে  দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়েও তারা কখনো বিচ্যুত হয়নি।
সাক্ষাৎকালে জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে বলেন, বাংলাদেশ ১৫ বছরের শাসন থেকে বের হয়ে একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা সুগম করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকারের সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
সাক্ষাতে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্কের পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ-জার্মানি সংসদীয় কমিটি গঠন এবং দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি আরো বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বিষয়টি উঠে আসে। পাশাপাশি দেশে সার কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রেও জার্মান বিনিয়োগের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন ও কৃষির জন্য প্রয়োজনীয় সার উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে জার্মান বিনিয়োগের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে সার কারখানা স্থাপিত হলে আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং কৃষি উৎপাদনকে স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে তা ভূমিকা রাখতে পারে- এমন সম্ভাবনার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
এ সময় স্পিকার ও জার্মান রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বাংলাদেশ-জার্মানির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় সহযোগিতা, গণতন্ত্র, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
অনুষ্ঠানে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।