ভবিষ্যৎ তোমাদের হাতের মুঠোয়
ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন । নয়া দিগন্ত

জবি সংবাদদাতা 

Advertisement

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ এবং দেশ গঠনে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেবো। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে- কী হতে চাও, কী করতে চাও, কিভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে; সেই সময়টা আজকে তোমাদের  এখনই।’ গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে- কোন পথে তোমরা যাবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়।
দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে নবীন শিক্ষার্থীদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তোমরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব, বাংলাদেশকে কিভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।
কারিগরি শিক্ষার সাথে শিল্প খাতের সংযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সম্প্রতি চীনের কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মডেল দেখতে তিনি চার দিনের সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে শিল্পের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু শেখার আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সম্মেলনে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
ছাত্রদলের সাথে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদল গঠনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ড ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়।