
ধানাই-পানাই চলবে না, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে বলে জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। বিএনপিকে সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হলে বাকি ছয় দফা নিয়ে জনগণকে আর ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে হলেও নব্য ফ্যাসিবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করব।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে বাগেরহাটের কাটাখালী ফটিরহাট গোলচত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী তৃতীয় লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাত দফা দাবি জনগণের দাবি। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর ওপর ভরসা করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। এক দফা, দুই দফা কিংবা তিন দফা—যখন যে কর্মসূচীর ডাক আসবে, সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে বাগেরহাট পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ দাঁড়িয়ে আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। এ আন্দোলনে যারা সমর্থন জানাচ্ছেন, তাদের সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
তিনি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালে এ দেশের মানুষ প্রমাণ করেছে, গুলি, বন্দুক ও কামান দাগিয়ে তাদের দমানো যাবে না। এ দেশের মানুষ মুক্তির পথ তৈরি করেছে। সেই পথ ধরে আন্দোলন সফলতার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে। নব্য ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজনে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’
পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘গণভোটের রায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা অব্যাহত থাকলে বিএনপির পরিণতি আগের স্বৈরাচারী সরকারের মতো হবে। বিএনপি একগুঁয়েমির পথ থেকে ফিরে না এলে ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি এক দফায় পরিণত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে ৫০ শতাংশ ভোট নিয়ে মেকানিজম ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি মনে করছে, তারা পার পেয়ে গেছে। কিন্তু গণভোটে ৭০ শতাংশ জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়ে সংবিধান সংস্কারের ম্যান্ডেট দিয়েছে। জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার যে রায় জনগণ দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হবে।’
মামুনুল হক বলেন, ‘বিএনপি প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি মেনে নিলে আজ রাজপথে নামতে হত না। সংবিধান সংস্কার হলে স্বাধীন পিএসসি গঠন করে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ করতে হবে।’
কিন্তু বিএনপি প্রশাসনকে দলীয়করণ করতে চায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরো বলেন, ‘দেশের তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, কৃষকের সার ও ব্যবসা সিন্ডিকেটের হাতে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে গোটা বাংলাদেশকে ভিনদেশের হাতে তুলে দেয়ার পাঁয়তারা করছে বর্তমান সরকার।’
গভীর সমুদ্রবন্দর ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চুক্তি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া বাংলাদেশের বুকের ওপর দিয়ে কোনো ভিনদেশের করিডোর দেয়ার চেষ্টা করা হলে বুকের রক্ত দিয়ে প্রতিরোধ করা হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লংমার্চের মধ্য দিয়ে জনগণ জাগরণ সৃষ্টি করে বিএনপিকে লাল কার্ড দেখিয়ে দিয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের কথা বলে দুর্নীতি করার কারণে জনগণ এখন বিএনপিকে লাল কার্ড দেখাতে প্রস্তুত। জনগণের এই জাগরণের মধ্য দিয়ে ১১ দলীয় আন্দোলন এগিয়ে নেয়া হবে।’
এনপিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেন, ‘নয় মাসের করুণ কষ্টের রক্তঝরা ইতিহাস রয়েছে। বিএনপির ইতিহাস প্রতারণার ইতিহাস। বিএনপি নেতাকর্মীদের রক্তের সাথে বেঈমানি করেছে। আর তা করতে দেয়া যাবে না। জনগণ তাদের বিদায় করবে।’
বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে পথসভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, কামাল হোসেন এমপি, হান্নান মাসউদ এমপি, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক ও এসএম খালিদুজ্জামান, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ওয়াদুদ আহমেদ, চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম রনি, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








