
সরকারি আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা ও ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ সামাল দিতে দেশগুলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়ছে এবং ঋণের বোঝা সামলাতে সরকারগুলোর ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আমাদের সবচেয়ে জোরালো আহ্বান কী? আর্থিক ব্যবস্থার ফাটল আরো বড় হওয়ার আগেই সরকারি আয়-ব্যবস্থাপনায় জরুরি সংস্কার আনুন।’
জর্জিয়েভা আরো বলেন, ‘এখনই রাজস্ব আয় বাড়ানো, সরকারি ব্যয়ে যৌক্তিকতা আনা ও সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি করার সময়।’
বিশ্ব অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করতে ব্যাংককে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা যখন সমবেত হয়েছেন, তখনই তিনি এ আহ্বান জানালেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পণ্য ও সেবার উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বহুল আলোচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সামান্য বাড়িয়েছে আইএমএফ।
সংস্থাটি এ বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের তুলনায় ০ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ায় নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হলেও দরিদ্র দেশগুলো এর সুফল সমানভাবে পাচ্ছে না। এর মধ্যে উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এসব দেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জর্জিয়েভা বলেন, ‘ঘন ঘন বিভিন্ন ধরনের অভিঘাত ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিশ্ব অর্থনীতি এখন পর্যন্ত স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। তবে এই চাপ মোকাবেলার সক্ষমতা ক্রমেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে বাড়তে থাকা অতিরিক্ত ভারসাম্যহীনতা নিয়ে আইএমএফ সতর্ক সংকেত দিচ্ছে।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর করণীয় তুলে ধরে আইএমএফ প্রধান বলেন, ‘খুব সহজভাবে বললে, চীনকে আরো বেশি ব্যয় করতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে আরো বেশি সঞ্চয় করতে হবে এবং ইউরোপকে আরো বেশি বিনিয়োগ করতে হবে।’
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








