
দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান। সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আবারো কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে উঠল ব্যালন ডি’অর। ২০২৬ সালে ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবার রাতে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ইংলিশ স্ট্রাইকারের হাতে শ্রেষ্ঠত্বের স্মারক তুলে দেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো। পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন কেইন।
তার আগে চারজন ইংলিশ ফুটবলার এই পুরস্কার জিতেছিলেন। তবে কেভিন কিগান দুইবার জেতেন ব্যালন ডি’র। ফলে এখন ইংল্যান্ডের ঘরে ব্যালন ডি’অরের সংখ্যা ৬।
ইংলিশ ফুটবলের প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস। ১৯৫৬ সালে পুরস্কাটির প্রথম আসরেই সেরার স্বীকৃতি পান ব্ল্যাকপুলের এই কিংবদন্তি উইঙ্গার। ৪১ বছর বয়সে তার এই অর্জন ছিল বিশেষ কীর্তি। খুলে দেন এই পুরস্কারের দরজা।
এর এক দশক পর, ১৯৬৬ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন ববি চার্লটন। ওই বছরই ইংল্যান্ড নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে। বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম প্রধান তারকা ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই কিংবদন্তি মিডফিল্ডার।
জাতীয় দলের সাফল্য ও ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ পারফরম্যান্স—দুইয়ের স্বীকৃতিই পেয়েছিলেন তিনি। এরপর পরপর দুই আসরে ব্যালন ডি’অর জেতেন কেভিন কিগান। ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে মৌসুম সেরার স্মারকটি দখলে নেন তিনি।
ইংলিশ ফুটবলারদের মাঝে এখনো একমাত্র কিগানই টানা দুই বছর এ কীর্তি গড়েছেন। লিভারপুলে সাফল্যের পর জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দিয়েও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখেন এই ফরোয়ার্ড। তার দুই জয়েই ইংল্যান্ডের ব্যালন ডি’অরজয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় চারে।
এরপর দীর্ঘ বিরতি। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের অনেক তারকা ফুটবলার আলো ছড়ালেও ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান মাইকেল ওয়েন। ২০০১ সালে লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি জেতেন তিনি।
ওই বছর লিভারপুল এফএ কাপ, লিগ কাপ ও উয়েফা কাপ জেতেন। তিনটি ফাইনালেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ওয়েনের। দ্রুতগতি, নিখুঁত ফিনিশিং আর বড় ম্যাচে গোল করার ক্ষমতা তাকে ইউরোপের সেরা ফুটবলারদের কাতারে নিয়ে যায়।
ওয়েনের পর আবারো দীর্ঘ অপেক্ষা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর লিওনেল মেসির দাপটে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে ইংলিশ ফুটবলারদের আর দেখা মেলেনি। আলো ছড়ালেও অর্জন স্বীকৃতি পায়নি। হ্যারি কেইন সেই অপেক্ষার অবসান ঘটালেন এবার।
স্ট্যানলি ম্যাথিউস, ববি চার্লটন, কেভিন কিগান ও মাইকেল ওয়েন—এই চার কিংবদন্তির পথ ধরে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো কেইনের নাম। ২৫ বছর পর ইংল্যান্ডের ঘরে ফিরল ব্যালন ডি’অর।
এবারের পুরস্কারের পেছনে কেইনের সংখ্যাগুলোই যেন সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য। ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে করেছেন ৭৩ গোল, সাথে ৮টি অ্যাসিস্ট। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৬১ গোল, ইংল্যান্ডের হয়ে ১২টি।
ইউরোপের মৌসুমসেরা গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি বায়ার্নকে জিতিয়েছেন বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ। শুধু গোলের সংখ্যা নয়, গোলের ধারাবাহিকতাও কেইনের এই জয়কে আলাদা করেছে।
বুন্দেসলিগায় ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল করে টানা তৃতীয়বারের মতো হয়েছেন লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা। চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৩ ম্যাচে করেছেন ১৪ গোল। বুন্দেসলিগায় ১০০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মাত্র ৯৮ ম্যাচে—জার্মান লিগে এতো দ্রুত শতকে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ড এটি।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








