ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, চীন
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে সেতু ভবনে বৈঠক বাসস

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে অর্থায়ন ত্বরান্বিত করতে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষকে (বিবিএ) জানিয়েছে একটি চীনা প্রতিনিধিদল। এদিকে বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে চীনের শানডং প্রদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব অর্থায়ন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের শানডং প্রদেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক বিকল্প ঋণদাতা হিসেবে প্রকল্পটিতে অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।'

সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে সেতু ভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব প্রকল্পটির সার্বিক অর্থায়নের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চান। অন্যদিকে ফার্স্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে কোম্পানি লিমিটেডের (এফডিইই) প্রতিনিধিগণ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের অগ্রগতি, অর্থায়ন এবং চলমান নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পান্থকুঞ্জ পার্কের পাশে থাকা আপ-র‌্যাম্পের নির্মাণকাজ শেষ করে তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে তিনি চীনা প্রতিনিধিদল ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে অনুরোধ জানান।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত আরএফআইডি ভিত্তিক ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) ব্যবস্থা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং এ বিষয়ে সমন্বয় নিশ্চিত করতে চীনা প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ জানান সেতু বিভাগের সচিব। এর ফলে যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

তিনি প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং নির্মাণকাজের গতি বাড়াতে প্রকল্প এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের নির্দেশ দেন।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত ও কার্যকরী সহায়তা দেয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন সেতু বিভাগের সচিব।

তিনি বলেন, ‘ঢাকাবাসী যাতে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটির সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে আরো কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।’

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প দেশের অন্যতম বড় অবকাঠামো ভিত্তিক সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) প্রকল্প। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (কাওলা) থেকে শুরু হয়ে কুড়িল, বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, মগবাজার, কমলাপুর, সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত সড়কপথের সক্ষমতা বাড়ানো এবং যানজট কমানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। প্রবেশ ও বহির্গমনের সংযোগকারী র‌্যাম্পসহ এর মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ শেষ করতে একটি সমন্বিত, সুস্পষ্ট ও সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি নির্মাণকাজ চলাকালে প্রকল্প এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদারের আহ্বান জানান।

বৈঠকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস