
আহমেদ ইফতেখার
বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও গবেষণার গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এই দ্রুতগতির বিকাশ নিয়ে এবার নতুন এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। তার দাবি, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে এবং ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সব দিক থেকেই মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে।
এআই মানুষের সক্ষমতাকে কখন ছাড়িয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে ইলন মাস্ক এর আগেও একাধিকবার পূর্বাভাস দিয়েছেন। ২০১৭ সালে একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, ২০৬০ সালের মধ্যে এআই সব ক্ষেত্রে মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। তখন মাস্ক বলেছিলেন, ২০৩০ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যেই এমনটি ঘটতে পারে। গত জানুয়ারিতে দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) সম্মেলনে এই সময়সীমা আরো এগিয়ে আনেন মাস্ক। তিনি জানান, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ, না হলে সর্বোচ্চ ২০২৭ সালের মধ্যে এআই যেকোনো মানুষের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান হয়ে উঠতে পারে। এর পরের পাঁচ বছরের মধ্যে এআই মানবজাতির সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। মাস্কের মতে, বিজ্ঞান ও আধুনিক গবেষণার প্রতিটি শাখায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে। যার প্রাথমিক রূপ ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পরিলক্ষিত হচ্ছে; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জটিল সব কাজ এখন এআইয়ের সহায়তায় দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এমন আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। ২০২১ সালে প্রখ্যাত এআই গবেষক ফ্রাঁসোয়া শোলে এক দীর্ঘ নিবন্ধে বলেছিলেন, আগামী ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এমনকি প্রতœতত্ত্বের মতো বিষয়গুলোও গভীরভাবে কম্পিউটার প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
প্রায় পাঁচ বছর পর সম্প্রতি নিজের সেই পুরোনো বক্তব্যটি পুনরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সামনে আনেন শোলে। তিনি ইঙ্গিত দেন, সে সময়ে তার যে পূর্বাভাস নিয়ে অনেকে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন, এখন তা দ্রুত বাস্তব রূপ নিচ্ছে। শোলের সেই পোস্টের মন্তব্যের ঘরেই নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন ইলন মাস্ক। শোলের দেয়া সময়সীমাকে বেশ ‘রক্ষণশীল’ উল্লেখ করে মাস্ক জানান, বাস্তবে রূপান্তরের গতি আরো দ্রুত। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ কিংবা সর্বোচ্চ ২০২৮ সালের ভেতরেই এআই মানবমেধাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
এআই পুরো পৃথিবীকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচ্ছে। মানুষের প্রায় সব ডিজিটাল কাজ করে দিচ্ছে এআই, কোডিংয়ে মানুষ আর যন্ত্রের সাথে পাল্লা দিতে পারবে না, বিশ্বের সেরা সার্জনকেও ছাড়িয়ে যাবে হিউম্যানয়েড রোবট। এরপর মানুষের সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে উঠবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কাজ হয়ে যাবে ঐচ্ছিক, আসতে পারে ‘ইউনিভার্সাল হাই ইনকাম’। এমনকি একসময় টাকার গুরুত্বও নাকি হারিয়ে যেতে পারে। শুনতে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো হলেও গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও অনুষ্ঠানে এমন ভবিষ্যতের কথাই বলেছেন ইলন মাস্ক।
মাস্কের মতে, এআই এবং রোবটিকস শুধু মানুষের চাকরির ধরনই বদলাবে না, বিশ্ব অর্থনীতির আকারও বদলে দিতে পারে। ফোর্বসের সাক্ষাৎকারে তিনি পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেন। এর পেছনে তার যুক্তি উৎপাদনক্ষমতা। একজন মানুষ দিনে নির্দিষ্ট সময় কাজ করতে পারেন। কিন্তু রোবট প্রায় সারাক্ষণ কাজ করতে পারলে এবং একই এআই থেকে একসাথে শিখতে পারলে পণ্য ও সেবা উৎপাদন নাটকীয় হারে বাড়তে পারে।








