
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। দেশজুড়ে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনকারীরা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) আন্দোলনের তৃতীয় দফার কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ফরাসি প্রশাসন।
রাজধানীতে বিক্ষোভের পথ নির্ধারণ নিয়ে আয়োজক সংগঠনগুলোর সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের বিরোধ দেখা দেয়। শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বাস্তিল থেকে নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিল করার পরিকল্পনা করলেও পুলিশ প্রশাসন সেই রুটে অনুমতি দেয়নি। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত প্যারিসের পোর্ত দ্য বাগনোলে থেকে পোর্ত দ্য শারঁতোঁ পর্যন্ত চার কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে মিছিলের অনুমোদন দেয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত কাউন্সিল অব স্টেট। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ফরাসি শ্রমিক সংগঠন সিজিটি এবং শিক্ষার্থী সংগঠন উনেফ শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত এই রুটেই মিছিল করতে সম্মত হয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নতুন ঘোষণা
সরকারের পক্ষ থেকে তরুণ সমাজের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না আসায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা। আগামী মঙ্গলবার থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনরায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু হবে এবং বৃহস্পতিবারও তা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া আগামী ৫ নভেম্বর শ্রমজীবী মানুষের আহ্বানে আয়োজিত ধর্মঘট ও বিক্ষোভেও শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা।
নিরাপত্তা ও হ্যালোইন উৎসব ঘিরে বাড়তি সতর্কতা
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্যারিসের বিভিন্ন রেলস্টেশন ও মেট্রো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক ডজন মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশের গাড়ি মোতায়েন করা হয়েছে। এবারের বিক্ষোভের সঙ্গে হ্যালোইন উৎসবের সময় মিলে যাওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনকারীদের মুখোশ পরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, জনসমক্ষে মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ করে কঠোর আইন প্রয়োগ করছে প্রশাসন। আইন লঙ্ঘনকারীদের সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড ও ১৫ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৩৫০টি বিক্ষোভ ও সমাবেশে তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে চার লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারে।
মফস্বল শহরেও বিক্ষোভের বিস্তার
শুধু প্যারিস নয়, ফ্রান্সের ক্লেরমঁ-ফেরাঁ, পো, আভিনিয়ঁ, গুয়েরে, নিয়োর ও লিলেসহ বিভিন্ন শহরেও সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়। লিলে ফ্লঁদ্র স্টেশনে বিক্ষোভকারীদের তল্লাশি করে পুলিশ। বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সাধারণ শ্রমিক ও চাকরিপ্রার্থীরা আয় বৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবি জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সে চলমান এই আন্দোলন এখন আর শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য, শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সংকট এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি পুরো আন্দোলনকে আরো বিস্তৃত করে তুলেছে। আগামী দিনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ এবং ৫ নভেম্বর শ্রমিকদের ধর্মঘটের ঘোষণায় পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








