যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) লন্ডনে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তিনি ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জোরদারের ঘোষণা করেছেন।

Advertisement

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন করে সমালোচনার মুখে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রতি সমর্থন জানানোর অংশ হিসেবে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাউনিং স্ট্রিটে নিজের সরকারি বাসভবনে জেলেনস্কিকে স্বাগত জানানোর সময় বার্নহ্যাম ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের ‘অটল’ সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করবেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়িয়েছেন। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে দেশটিকে ডিজেল রফতানির সুযোগ দেয়ার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন।

এদিকে, ট্রাম্প একতরফাভাবে ‘জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি’র ঘোষণা দেয়ার পর এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ক্রেমলিনও এখন পর্যন্ত এ যুদ্ধবিরতিকে স্বীকৃতি দেয় কি-না, তা স্পষ্ট করেনি।

ব্রিটিশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, জেলেনস্কির এ সফরের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্য তার সমর্থন আরো জোরদার করছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বার্নহ্যাম জেলেনস্কিকে জানাবেন যে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউক্রেনকে জরুরি সহায়তা দিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা, সামরিক সহায়তা ও আর্থিক সহযোগিতার প্যাকেজ তৈরির জন্য তিনি মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের কাজও দ্রুত করা হবে।

বার্নহ্যাম বলেন, ‘ইউক্রেনের জনগণের প্রতি আমার বার্তা একেবারেই স্পষ্ট— যত দিন প্রয়োজন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব। ইউরোপে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের সাহসী লড়াইয়ে সমর্থন দিতে আমরা আরো বেশি ও দ্রুত সহায়তা করব।’

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকস্মিক এক ঘোষণায় ট্রাম্প দাবি করেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগারে দূরপাল্লার ধ্বংসাত্মক হামলা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

তবে সোমবার জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া এ যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়নি। ওই দিন মস্কো ইউক্রেনের ছয়টি জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে, ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ করে দিতে ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

তবে মস্কোও প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছে বলে মনে হচ্ছে। অথচ রাশিয়ার ক্রেমলিন ও যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস— উভয় পক্ষই ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে।

কঠিন কয়েকটি দিন
ট্রাম্প চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে জেলেনস্কিকেই প্রধান বাধা হিসেবে দায়ী করেছেন। তার দাবি, ১৯৯৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ‘দৃঢ়ভাবে’ একটি সমঝোতা চান।

জেলেনস্কি ২০১৯ সালে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে তিনি দেশটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ওই যুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।

গত শনিবার ট্রাম্প ইউক্রেনের উদ্দেশে বলেন, দেশটির ‘নতুন নেতা পাওয়ার সময় এসেছে’।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাত পঞ্চম বছরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যসহ ইউক্রেনের পশ্চিমা মিত্ররা জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।

তবে রাশিয়াকে ডিজেল রফতানির সুযোগ দেয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের মিত্ররা।

আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দেশটিতে জ্বালানির দামও বেড়েছে এবং নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে।

তবে ট্রাম্প এ মূল্যবৃদ্ধির জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে দায়ী করার চেষ্টা করেছেন।

মঙ্গলবার ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মিত্রদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গত কয়েকটি দিন ছিল ‘খুবই কঠিন’।

সূত্র : বাসস