ফিন্যান্ড ইউরোপ
সোমবার ফিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রোভানিয়েমিতে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় নেতারা। সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উপস্থিতি কিভাবে আরো শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার ফিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর রোভানিয়েমিতে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় নেতারা।

Advertisement

আর্কটিক অঞ্চলকে ঘিরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

গ্রিনল্যান্ডকে- যা ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল; যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার দেয়া হুমকি মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক সঙ্কট তৈরি করেছে।

‘ইউরোপিয়ান আর্কটিক সামিট’ নামে এই বৈঠকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনসহ ইউরোপের শীর্ষ নেতারা অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তাও বৈঠকে থাকবেন।

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেটেরি অর্পোর উদ্যোগে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার ইউরোপীয় বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা তুওমাস টিক্কানেন বলেন, ‘মূলত এই পরিস্থিতিতে আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে ইইউর একটি অভিন্ন কৌশলগত অবস্থান আরো শক্তিশালী করাই এ বৈঠকের উদ্দেশ্য। কারণ অঞ্চলটির ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে।’

আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইউরোপীয় কমিশন আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে নতুন একটি কৌশল ঘোষণা করতে পারে। আগামী কয়েক বছর এই নীতিই আর্কটিক বিষয়ে ইইউর অবস্থান ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করবে।

টিক্কানেন এএফপিকে বলেন, চূড়ান্ত নথি প্রকাশের আগে সদস্য দেশগুলো ও নেতাদের এতে প্রভাব রাখার সুযোগ রয়েছে। তাই ‘এই বৈঠকটি বেশ সময়োপযোগী’।

আর্কটিক নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ

২০২১ সালে ইইউ সর্বশেষ আর্কটিক নীতি গ্রহণ করার পর থেকে অঞ্চলটির প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এবারের সম্মেলনে আর্কটিক অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণও এর প্রমাণ দিচ্ছে।

টিক্কানেন বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলের প্রতি অনেক বেশি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।’

বৈঠকে আনুষ্ঠানিক কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা না থাকলেও অর্থনৈতিক স্বার্থ, নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন নেতারা। সোমবার একটি যৌথ ঘোষণা প্রকাশের কথা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আর্কটিক অঞ্চল বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির তুলনায় প্রায় চার গুণ দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে পরিবেশ ও ওই অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

সমুদ্রের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ার ফলে রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়ে দিয়েছে। একইসাথে অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সম্পদ ও নতুন সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের জন্যও দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছে।

গত আগস্টে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া কনটেইনারবাহী জাহাজ পাঠিয়ে রাশিয়ার জলসীমার মধ্য দিয়ে যাওয়া নর্দার্ন সি রুট ব্যবহার করে যাত্রা করার চেষ্টা করে। প্রতিবছর এই সমুদ্রপথে দীর্ঘ সময় বরফমুক্ত পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এর বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়।

চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেয়া প্রয়োজন। তবে পরে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একীভূত করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন।

এর কিছুদিন পর ট্রাম্পকে শান্ত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয় এমন এক পদক্ষেপে ন্যাটো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন একটি মিশন শুরু করে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন গত ৭ সেপ্টেম্বর গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় অঞ্চলটির জন্য ২০ কোটি ইউরোর (প্রায় ২৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার) একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘আরো বেশি উপস্থিত থাকবে এবং আরো সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হবে।’
সূত্র : বাসস