
ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে ক্রমাগত জোর করে মানুষ ঠেলে পাঠানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পরিকল্পিত ও নিয়মিত কাজে রূপ নিয়েছে পুশইন। এখন সীমান্তে রাত নামলে সতর্ক থাকতে হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)। সজাগ পাহারা বসাতে হচ্ছে স্থানীয়দেরকেও। ভারতীয় অংশে থাকা ফ্ল্যাডলাইট নিভিয়ে দিতে দেখা যায় বিএসএফকে। অন্ধকারে এবং বৈরী আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা অবৈধ কর্মকাণ্ড চালায়। পুশইন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে, নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষকে মানবিক সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে এমন এক ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী সীমান্ত এলাকার বাতি নিভিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করে। এর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে জনমনে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। কেবল লালমনিরহাট নয়; চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে পুশইনের এ ধরনের অসংখ্য অপচেষ্টা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন, দ্বিপক্ষীয় প্রটোকল এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক কোনো কিছুর ধার ধারছে না তারা। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই একতরফা আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ ধরনের অননুমোদিত অনুপ্রবেশ দেশের ভেতরে আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও স্থানীয় জনসাধারণের ভূমিকা প্রশংসনীয়। সীমান্তে আলো নিভে যাওয়ার সাথে সাথেই সতর্ক অবস্থানে চলে যায় বিজিবি। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেন স্থানীয়রা। লাঠিসোটা ও টর্চলাইট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তারা। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনতা ও বাহিনী একসাথে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ সাময়িকভাবে অপচেষ্টা প্রতিহত করতে পারলেও এটা স্থায়ী সমাধান নয়। এ ঘটনাগুলো সীমান্তের মানুষের মনে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাহীনতা ও ভীতি তৈরি করছে, যা মেনে নেয়া যায় না।
পুশইন ঠেকাতে সীমান্তবর্তী প্রতিটি পয়েন্টে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরো বাড়াতে হবে। দেশের অখণ্ডতা ও সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার ও প্রশাসনকে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নিতে হবে। এর কূটনৈতিক সমাধানে বাংলাদেশ বারবার চেষ্টা চালিয়েছে। তাতে সাড়া না দিয়ে ভারত একই আগ্রাসী আচরণ করেই যাচ্ছে। কোনোভাবে সেটা সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের বার্তা দেয় না।
জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এ ব্যাপারে অবহিত করতে বাংলাদেশকে উদ্যোগ নিতে হবে। বৈশ্বিক জনমত গড়ে তুলতে সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর। বিষয়টি জানাতে হবে যে, ভারত আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে অমানবিক পুশইন করছে। দ্বিপক্ষীয় সমাধানে ভারত যেহেতু উৎসাহিত নয় সেজন্য বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে সরকারকে।
সর্বোপরি কূটনৈতিক দৃঢ়তা এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে সীমান্ত আগ্রাসন মোকাবেলা করতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








