
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ-প্রশাসনের শক্তিশালী অবস্থান অপরাধপ্রবণতা রোধে বড় ভূমিকা রাখে। বাহিনী নিষ্ক্রিয় হলে অপরাধীরা দুষ্কর্ম করে সহজে পার পায়। খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে বোঝার উপায় খুব কম যে, সেখানে পুলিশ-প্রশাসন সক্রিয় আছে। খুলনা যেন এখন এক খুনের নগরীতে পরিণত হয়েছে।
গণমাধ্যমের খবর— চলতি বছরে খুলনা মহানগরসহ জেলায় দুর্বৃত্তদের গুলি ও গণপিটুনিতে ৭৫টি হত্যাসহ অসংখ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হিসাব মতে, চলতি বছরের ১ নভেম্বর পর্যন্ত শুধু খুলনা মহানগরীতে দুর্বৃত্তদের হাতে নারীসহ নিহত হয়েছেন ৩৭ জন। নিহতদের অধিকাংশই তরুণ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একজন, ফেব্রুয়ারিতে চারজন, মার্চে চারজন, এপ্রিলে দু’জন, মে মাসে তিনজন, জুনে তিনজন, জুলাইয়ে তিনজন, আগস্টে পাঁচজন, সেপ্টেম্বরে ছয়জন, অক্টোবরে চারজন ও ১ নভেম্বর দু’জন নিহত হয়েছে। মাসে গড়ে প্রায় চারটি হত্যার ঘটনা ঘটছে। এ সময় পুলিশ হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১৫৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। খুনের এমন ধারাবাহিকতা যেকোনো সমাজের জন্য ভয়ানক। খুলনার জনগণের জন্যও তাই হয়েছে। সেখানকার মানুষদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
খুলনায় অপরাধ যে হঠাৎ করে ঘটছে তা কিন্তু নয়! সেখানে ২২টি সন্ত্রাসী সংগঠন ও কিশোর গ্যাং রয়েছে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, মাস্তানিসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা তারা করছে না। এদের দমন করতে পুলিশ-প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এদের প্রশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশ্নই আসে না। এই অবস্থায় গুটিকয়েক অপরাধীর কাছে সমাজ জিম্মি হয়ে আছে।
সমাজে অপরাধ সংঘটনের নেপথ্য শক্তি হিসেবে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচ্ছন্ন হাত থাকে। তাদের ছত্রছায়ায় অপরাধী চক্র নির্বিঘ্নে অপরাধ কার্যক্রম চালায়। খুলনার সন্ত্রাসী সংগঠন কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের পেছনে কি এমন শক্তি সক্রিয় আছে?
খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদারের ফাঁসি হওয়ার পর সেখানে এতগুলো সন্ত্রাসী সংগঠন ও কিশোর গ্যাংয়ের জন্ম হওয়ার কারণ নিয়ে ভাবতে হবে। আসলে এ ধরনের অপরাধ দমনের জন্য সমাজের মূল স্তর থেকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সমাজ থেকে বেকারত্ব ও মাদক নির্মূল করতে হবে। আইনের ফাঁকফোকর বন্ধ করতে হবে। যাতে কেউ অপরাধ করলে খুব সহজে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে না জড়াতে পারে।
শুধু বিচারের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা যায় না। অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করেও অনেক সময় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এর জন্য দরকার সরকার ও সমাজের মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক। প্রথমত সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে নিজ দল ও প্রশাসনের মধ্য থেকে অপরাধ কোনোভাবে প্রণোদনা পাবে না। এরপর সমাজের প্রত্যেকটি অংশের সাথে মিলেমিশে অপরাধীদের বিরুদ্ধে একজোট হতে হয়। খুলনার মতো বাংলাদেশের অন্যান্য অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হলে এ ধরনের একটি সম্মিলিত ব্যবস্থা দরকার।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








