
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাথে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) মহাসচিব স্টিফেন টুইগের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে চলমান ৬৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি কনফারেন্সের ফাঁকে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ, সংসদ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, রোহিঙ্গা সঙ্কট এবং বাংলাদেশ ও সিপিএর মধ্যে সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সিপিএ মহাসচিব বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে আগামী নভেম্বরে সংসদ সদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ও অভিজ্ঞ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে চার দিনব্যাপী একটি আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সেমিনার আয়োজন করা হবে। তিনি নিজেও এতে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে বিরোধীদলীয় ও নারী সংসদ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করায় ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান স্টিফেন টুইগ। তিনি এটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদীয় চর্চার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নেতৃত্বের বিকাশ ও সংসদে নারীর কার্যকর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধিতে সিপিএর কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানসের (সিডব্লিউপি) বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের নারী সংসদ সদস্যদের সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান।
সিপিএ মহাসচিব বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের সিপিএ পার্লামেন্টারি একাডেমির অনলাইন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ারও পরামর্শ দেন। এসব প্রশিক্ষণ সংসদীয় কার্যক্রম, আইন প্রণয়ন, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের জ্ঞান ও দক্ষতা আরো সমৃদ্ধ করবে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সঙ্কট ও তাদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্টিফেন টুইগ। বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের মানবিক সহায়তা দেয়ায় বাংলাদেশের দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব লাভ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান সিপিএ মহাসচিব। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা ও মর্যাদারও প্রশংসা করেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা এবং সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সিপিএর ধারাবাহিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশের সাথে সিপিএ ও সিপিএ যুক্তরাজ্য শাখার সহযোগিতা আরো গভীর হবে এবং তা দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় অগ্রযাত্রায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বৈঠকে প্রতিনিধিদলের সদস্য সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা ও মো: মাহবুবুল আলম এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সারওয়ার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। ইউএনবি







